উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি উঠা-নামার সঙ্গে ভাঙন তীব্র হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙনে সদরের গোয়ালপুরীরচর, কালির আলগা, বানিয়াপাড়া; তিস্তা নদীর ভাঙনে রাজারহাটের রামহরিসহ জেলার ৩৬ পয়েন্টে বেশ কিছু পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, পানি বাড়া-কমার সঙ্গে ভাঙন তীব্র হলেও তা রোধে তেমন কার্যকর ব্যবস্থা নেই। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও শত শত পরিবারকে বসতভিটা হারাতে হবে। 

সরেজমিন সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, দুধকুমার নদীর পানি বাড়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে এ এলাকায় এক কিলোমিটার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীর কিনারে থাকা তিনটি পরিবার তাদের ঘর-বাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। আরও একশত পরিবার ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এক বছরে বানিয়াপাড়া গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। তাদের অভিযোগ, একের পর এক ফসলী জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে গেলেও এখন পর্যন্ত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

যাত্রাপুরের বানিয়াপাড়া এলাকার একাব্বর আলী জানান, ঘর-বাড়ি রক্ষার জন্য গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড সামান্য কিছু বালুর বস্তা ফেলে। বস্তার পরিমাণ অনুযায়ী নদীর গভীরতা বেশি হওয়ায় তা স্রোতের টানে ভেসে গেছে। 

শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে তিস্তার ভাঙন শুরু হয় রাজারহাট উপজেলার রামহরি এলাকায়। এতে কিছু বুঝে ওঠার আগে ইদ্রিস আলী বয়াতীর আমগাছসহ অন্যান্য গাছ নদীতে তলিয়ে যায়। এ সময় এলাকাবাসীর সহায়তায় কোনোরকমে ভিটেমাটিতে থাকা ঘর সরাতে পারেন তিনি।

রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি গ্রামের ইদ্রিস আলী বয়াতী জানান, কোনোরকমে ঘর রক্ষা করা গেলেও আকষ্মিক ভাঙনে গাছপালা নদীতে চলে গেছে।  এই এলাকায় সঠিক সময়ে তীররক্ষার কাজ না করায় এবং তিস্তায় পানি বেড়ে গতিপথ পরিবর্তন করায় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। 

এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমারে স্বপ্ল মেয়াদী বন্যার পুর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র। আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে এ সব নদ-নদীর উজানে ভারতের অংশে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির পানি নেমে আসলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলার নদ-নদীগুলোতে পানি বাড়া-কমার সঙ্গে ৩৬ পয়েন্টে ভাঙন দেখা গেছে। ভাঙন কবলিত এলাকার গুরুত্ব বিবেচনায় বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে জরুরী ভিত্তিতে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।