কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি। এই বাড়িতে বসেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেছেন তার অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি। কবির স্মৃতিবিজড়িত এই তীর্থভূমি দেখতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক ভিড় করেন। তবে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনার আঙিনায় সৃষ্টি হয়েছে চরম জলাবদ্ধতা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা।সরেজমিনে শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে দেখা যায়, কুঠিবাড়ির প্রধান প্রবেশপথ, মুক্তমঞ্চ, ম্যুরালের সম্মুখভাগ ও জাদুঘরের আঙিনাসহ বাগান এলাকা এখন পানিতে থৈথৈ করছে। পানি জমে থাকায় দর্শনার্থীরা কেবল পাকা হাঁটার পথ (ওয়াকিং পথ) ছাড়া অন্য কোথাও যেতে পারছেন না। বাগানের অনেক গাছ পানিতে নুয়ে পড়েছে, কয়েকটি উপড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।রাজশাহী থেকে শিক্ষা সফরে আসা এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা ৪০ জন শিক্ষার্থী মিলে এসেছিলাম। ভেবেছিলাম মুক্তমঞ্চে বসে কবিতা আবৃত্তি করব, আমবাগানে ছবি তুলব। কিন্তু সবখানেই পানি। কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।’কুষ্টিয়া শহর থেকে পরিবার নিয়ে আসা বেসরকারি চাকরিজীবীরা জানান, দর্শনীয় এই জায়গার এমন বেহাল দশা মানা যায় না। পর্যটকদের জন্য এখানে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকা জরুরি।জলাবদ্ধতার কারণে বিপাকে পড়েছেন কুঠিবাড়ির কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। কুঠিবাড়ির কর্মচারী সাকিব হোসেন জানান, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় বাগানের ফুল ও ফলের গাছগুলো মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। জাদুঘরের ভেতরে ও বাইরে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান আল আমীন বলেন, কুঠিবাড়ির নিজস্ব কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। আগে বৃষ্টির পানি পাশের একটি বিলের দিকে চলে যেত। কিন্তু এবার ভারী বর্ষণে বিলটি ভরাট হয়ে উল্টো পানি কুঠিবাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ছে। সড়ক ঘেঁষে থাকা পানি নিষ্কাশনের সরু নালাটিও এখন মৃতপ্রায়।আল আমীন আরও জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না হলে কুঠিবাড়ির অবকাঠামো ও মূল্যবান প্রত্নসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।