জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির আগেই দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতি ও সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি অত্যন্ত হতাশাজনক। জুলাই-পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ছিল।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোলার চরফ্যাশন টাউন হলে ভোলা জেলা উত্তর ও দক্ষিণ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পৃথক শুরা অধিবেশন ও সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন
বিএনপির ২০ লাখ লোক চাঁদাবাজিতে নেমেছে: কর্নেল অলি
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সবচেয়ে সহিংস দিক ছিল ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস ও আধিপত্য বিস্তার। তারা নিজেদের দলের বাইরে অন্য কোনো ছাত্রসংগঠনের অস্তিত্ব মেনে নিতে চাইতো না। অনেক ক্ষেত্রে নির্মম নির্যাতন ও হত্যার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তরুণদের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম কারণ ছিল ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস।
তিনি বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দুই ছাত্রসংগঠনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবারও বিভিন্ন ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং এ ধরনের সহিংসতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, যারা দলীয় আধিপত্য বিস্তারের জন্য শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছেন, তাদের ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির চর্চাকারীদের জাতি অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করবে।
আরও পড়ুন
সচিবালয়ের সামনে ১১ দলীয় ঐক্যের অবস্থান, পুলিশি বাধায় ‘ধাক্কাধাক্কি’
এসময় তিনি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জননিরাপত্তার বিষয় তুলে ধরে বলেন, এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান করতে হবে। বৈশ্বিক সংকট কিংবা অতীতের অনিয়মের অজুহাত দিয়ে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। সরকারকে দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে, অন্যথায় জনসমর্থন হারাতে সময় লাগবে না।
সমাবেশে ভোলা জেলা দক্ষিণ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে প্রফেসর মাওলানা এ এম এম কামাল উদ্দিনকে সভাপতি, মাওলানা গোলাম মোর্শেদকে সহ-সভাপতি এবং মাওলানা আব্বাস উদ্দিনকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।
এমইউ/কেএসআর








