নতুন করে তৈরি হওয়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট আগামীকাল মঙ্গলবার রাত থেকেই কেটে যাবে বলে ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ কথা জানিয়েছেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও ব্যবসায়ী ফজলুল হক। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেছেন, মঙ্গলবার রাত থেকেই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে নতুন করে তৈরি হওয়া সংকটের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ২০টির বেশি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও ব্যবসায়ী ফজলুল হক।

ফজলুল হক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কাল রাত থেকেই ইনশাআল্লাহ আমাদের নতুন করে যে সংকট তৈরি হয়েছে, এর আগের যে অবস্থায় আমরা ছিলাম, সেই অবস্থায় গ্যাস-বিদ্যুতের ওই অবস্থায় আমরা কাল রাতে ফিরে যেতে পারব।”

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছে এটি বৈঠকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এবং স্বস্তির খবর। বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আগামী দিনগুলোতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের উৎপাদন কীভাবে বাড়ানো হবে, তার একটি রূপরেখা তুলে ধরেছেন। চলমান সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি শিল্পের বিকাশ ও নতুন বিনিয়োগের জন্য ভবিষ্যতে বাড়তি গ্যাস-বিদ্যুতের চাহিদা কীভাবে পূরণ করা হবে, সে পরিকল্পনাও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত দুই ঘণ্টার বৈঠক প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে। এতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা নিজ নিজ খাতের বিভিন্ন সমস্যা, প্রশ্ন ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্টরা এসব বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের পরিকল্পনা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জানিয়ে ফজলুল হক বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। তবে ব্যবসায়ীরা সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চান।

তিনি বলেন, “আজ যারা এখানে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ছিলাম, আমরা একটা স্বস্তি এবং একটা ভালো লাগার আশ্বাস নিয়ে এই সভা থেকে ত্যাগ করেছি। আমরা এই সরকারের প্রতি আস্থা রাখতে চাই।”

ফজলুল হক বলেন, জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি বন্দর, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যান্য সমস্যা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ ছাড়া একই আশ্বাসের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আবুল কালাম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, মঙ্গলবার থেকেই মিল-কলকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

মো. আবুল কালাম বলেন, “আজকের সভায় প্রধানমন্ত্রী আমাদের জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, আগামীকাল থেকেই আমাদের মিল-কলকারখানায় সমস্ত ফ্যাক্টরিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের যে চাহিদা ছিল, আগের মতো তার অনেক ধরনের উন্নতি হবে এবং আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারব।”

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন ব্যবসায়ীরা পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৈঠকে সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ২০টির বেশি শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন, চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন।