নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পদ্মা রেল-সংযোগ সেতুর পিলারের নিচের মাটি কাটার বিষয়টি প্রকল্পের অংশ জানিয়ে সড়ক, সেতু ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ভায়াডাক্টের নিচে মাটি অপসারণে রেললাইন বা কাঠামোর ঝুঁকি হবে না। বরং প্রকল্পের নিরাপত্তা, পরিবেশের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার স্বার্থেই এ কাজ করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল-সংযোগ সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে চলমান ডিমোবিলাইজেশন কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন মন্ত্রী। তার এ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠে। তাদের দাবি, আগে ফতুল্লার আলীগঞ্জে পণ্যবাহী ট্রাকে বড় ধরনের যানজট সবসময় লেগেই থাকত। রেল সেতুর কাজ হওয়ার পর সেতুর নিচ দিয়ে একটি মাটির সড়ক তৈরি হয়েছে। এতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সংযোগ সড়কে যানজট একেবারেই কমে গেছে। এখন ওই অংশের মাটি কেটে নিলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ফের ব্যাহত হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলীগঞ্জের কয়েকজন অভিযোগ করেন, যারা রেল সেতুর নিচের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন, তারা প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বললে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। এ বিষয়ে আগে জেলা প্রশাসককে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে মাটি কাটা বন্ধ করে সড়ক নির্মাণ করতে হবে এবং সড়কের উভয় পাশে গাছ লাগিয়ে সৌন্দর্যবর্ধন করতে হবে।

এর আগে ওই সভায় মন্ত্রী আরও বলেন, ইতোমধ্যে ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটারের মধ্যে ১৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার অংশের মাটি অপসারণের কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার এলাকায় গড়ে সাড়ে তিন ফুট মাটি অপসারণ করা হবে। এতে ভায়াডাক্ট বা রেললাইনের কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি হবে না। বরং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এ কাজ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, পুরো কাঠামো প্রকৌশলগতভাবে নিরাপদ এবং সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের স্বার্থেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহণ ও রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রহমান, রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েমসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।