লালমনিরহাটের পাটগ্রামের মোহাম্মদপুর গ্রামের একটি জীর্ণ কুটিরে এখন শুধুই কান্নার শব্দ। ঈদের ছুটি শেষে বাবার হাত ধরে যে কিশোর ঢাকা গিয়েছিল একটু ভালো থাকার আশায়, আজ ২০ দিন সে নিখোঁজ। ১৩ বছরের শান্ত ছেলে লিমন এখন কোথায় আছে, কেমন আছে—এই দুশ্চিন্তা নিয়ে দিনযাপন করছেন বাবা-মা।
লিমনের বাবার নাম মো. খলিল উদ্দিন। অভাবের সংসারে বাড়তি রোজগারের আশায় তাকে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে অ্যামব্রয়ডারি কারখানায় ঢুকিয়ে দেন তিনি। কোরবানির ঈদের ছুটি কাটিয়ে গত ১৩ জুন কারখানায় যোগ দিতে কামরাঙ্গীরচরে নানার বাসায় আসে লিমন। ওই রাতেই সে কারখানার কাজে যোগ দেয়। কিন্তু কারখানার ভারী মেশিনের বিকট শব্দ সহ্য হয়নি লিমনের। ভয় পেয়ে, কানে হাত চেপে সেদিন রাতেই সে বাসায় ফিরে আসে। পরদিন সকালে নানার বাসা থেকে বেরিয়ে গেলেও লিমন আর ফিরে আসেনি।
লিমনের নানা খতিবুর রহমান সেদিনের কথা বলতে গিয়ে চেখের পানি আটকে রাখতে পারেননি। বলেন, ‘লিমন শান্ত স্বভাবের। প্রায় ছয় মাস ঢাকায় একটি থ্রি-পিস কারখানায় সেলাইয়ের কাজ করেছে। ঈদের পর নতুন কারখানার নিয়ে যাই। কিন্তু কারখানার বিকট শব্দ ও পরিবেশ ওর ভালো লাগেনি। সকালবেলা কাউকে কিছু না বলে বের হয়ে গেল, আর ফিরল না।’
লিমনের ছবি বুকে চেপে ধরে মামা দিপু ইসলাম ডুকরে কেঁদে ওঠেন। বলেন, ‘২০ দিন হয়ে গেল, আমার ভাগনেটার কোনো খোঁজ নেই। বোনটা (লিমনের মা) পাগলপ্রায়, নাওয়া-খাওয়া সব ছেড়ে দিয়েছে। একটা পরিবার কীভাবে জীবন্ত লাশের মতো দিন কাটাচ্ছে, তা শুধু আমরাই জানি। আমাদের আদরের লিমনকে কি আর ফিরে পাব না?’
ছেলের খোঁজে কামরাঙ্গীরচর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন খলিল উদ্দিন। দিন যায়, রাত ফুরায়, কিন্তু লিমনের খোঁজ মেলে না। তিনি জানান, সন্তান হারিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে একটি যুগের মতো।
কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, পুলিশ কিশোর লিমনের সন্ধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। দেশের সব থানায় তার ছবি ও তথ্য পাঠানো হয়েছে। তাকে উদ্ধারে সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও সাধারণ তৎপরতা অব্যাহত আছে।








