মায়ের মৃত্যু ঘটেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এবং আইনগতভাবে যা ব্রেন ডেথ। এমন ঘোষণার পর কান্নার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের করিডর। আইনগতভাবে তাঁর জীবনের অবসান ঘটেছে। কিন্তু কয়েক মাস পর সেই মৃত মায়ের গর্ভ থেকেই জন্ম নিল এক শিশু। শুনতে অবাস্তব হলেও এমন ঘটনার নজির রয়েছে। ব্রেন ডেথ হলেও বিজ্ঞানের কল্যাণে লাইফ সাপোর্টের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম চালু রাখা যায়।
মৃত্যুর পরও কি সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব
শুনতে অবাস্তব মনে হলেও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের বদৌলতে এমনটা সম্ভব। যার নজিরও রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন বিরল ঘটনা ঘটেছে। যদি কোনো অন্তঃসত্ত্বা মায়ের ব্রেন ডেথ ঘটে এবং তাঁর গর্ভের ভ্রূণ জীবিত থাকে, তবে উন্নত চিকিৎসাবিজ্ঞানের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের আগপর্যন্ত তাঁকে যান্ত্রিকভাবে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।
এমন বিশেষ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা ভেন্টিলেটর, ঔষধ ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে মায়ের শরীরকে সাময়িকভাবে কার্যকর রাখতে পারেন ভ্রূণ পর্যাপ্ত পরিণত হওয়া পর্যন্ত। পরবর্তীকালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুর জন্ম দেওয়া হয়ে থাকে।
২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে এমন একটি বিরল ঘটনা। ২৬ বছর বয়সী সুসান টরেস নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর স্ট্রোকের কারণে ব্রেন ডেথ ঘটে। সে সময় তিনি ১৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গর্ভের ভ্রূণ জীবিত থাকায় চিকিৎসকেরা সিদ্ধান্ত নেন লাইফ সাপোর্টের মাধ্যমে তাঁর শরীরের কার্যক্রম চালু রাখার। পরবর্তীতে গর্ভকাল নিরাপদ পর্যায়ে পৌঁছালে সিজারিয়ান পদ্ধতিতে তাঁর একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। শিশুটির জন্মের পর তাঁর লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়া হয়।
আরও একটি ঘটনা ঘটে চেক প্রজাতন্ত্রে। মায়ের ব্রেন ডেথ নিশ্চিত হওয়ার পর প্রায় ১১৭ দিন তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় সন্তান জন্মদানের আগপর্যন্ত। এই ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানে দীর্ঘতম সফল সোমাটিক সাপোর্টের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
পাখিরা কেন অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে বাসা বানাচ্ছেআমেরিকান জার্নাল অব অবস্টেকট্রিক অ্যান্ড গাইনোকলজিতে ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি সিস্টেম্যাটিক রিভিউয়ে বিশ্বের প্রায় ৩৫টি ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, যথাযথ নিবিড় পরিচর্যা পেলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ক্ষেত্রে জীবিত শিশুর জন্ম সম্ভব। তবে এটি অত্যন্ত বিরল এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে নৈতিকতা, পরিবারের মতামত ও আইনি বিষয় সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করাও জরুরি।
ব্রেন ডেথে একজন মানুষকে চিকিৎসাগত ও আইনগতভাবে মৃত বলেই গণ্য করা হয়। এ অবস্থা থেকে বৈজ্ঞানিকভাবে ফিরে আসার কোনো নজির নেই। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে নিভে যাওয়া একটি জীবনের মধ্য থেকেও জন্ম নিতে পারে নতুন একটি জীবন।
পৃথিবীতে এমন অনেক ঘটনাই ঘটে, যা আমাদের ভাবনার বাইরে। ওপরের উদাহরণগুলো তেমনই কিছু বিস্ময়কর বাস্তবতার সাক্ষ্য।








