কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানাহাজতে পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন ইকবাল শেখ ওরফে গারো নামের এক আসামি।

আজ সোমবার ভোরে মুরগি চুরি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ায় লজ্জায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

ইকবাল শেখ (৪০) উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকার ইসলাম শেখের ছেলে।

পুলিশ, সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ ভোরে উপজেলার জিলাপীতলা এলাকা থেকে মুরগি চুরির সময় পুলিশের হাতে আটক হন ইকবাল। পরে তাঁকে থানাহাজতে রাখা হয়। সেখানে তিনি পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে হাজতের দেওয়ালের লোহার গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে গলায় ফাঁস নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন আরেক আসামি বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ছুটে এসে ইকবালকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনাটি থানার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ৬ জুন উপজেলার সদকী ইউনিয়নের দরবেশপুর গ্রামের আলতাফ ফকিরের ছেলে বিপ্লব হোসেনের খামার থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গরু চুরি করেন ইকবাল। সেই গরু ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে মৃত বাবার কুলখানিতে ব্যয় করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

ইকবাল গ্রেপ্তার হওয়ার খবর পেয়ে থানায় ছুটে আসেন ক্ষতিগ্রস্ত খামারি বিপ্লব হোসেন। তিনি বলেন, ‘গত ৫ জুন ইকবালের বাবা মারা যান। পরদিন ৬ জুন রাতে তিনি আমার খামার থেকে গরু চুরি করেন এবং ৮ জুন সেই টাকায় বাবার কুলখানি করে গা-ঢাকা দেন। তখন পুলিশকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলাম। আজ তিনি ধরা পড়ায় থানায় নিয়মিত মামলা করতে এসেছি।’

পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় আসামি ইকবাল শেখ বলেন, ‘গরু চুরির পর ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে আমি ভাগে ২৫ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। তার মধ্যে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে বাবার দেনা শোধ করেছি আর বাকি টাকা খরচ করেছি। আজ মুরগি চুরি করায় পুলিশ ধরে থানায় নিয়ে আসায় লজ্জায় মরে যেতে চেয়েছিলাম।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, ইকবালের বিরুদ্ধে একাধিক চুরির অভিযোগ রয়েছে। থানাহাজতে আত্মহত্যার চেষ্টা চালালে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাঁকে রক্ষা করেন। চুরির মামলার পাশাপাশি আত্মহত্যা চেষ্টার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।