রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাস ও নব্বইয়ের দশকের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘চিরকুট’ আগামী ১৬ অক্টোবর মুক্তি পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চলচ্চিত্রটি নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থী বিভিন্নভাবে যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিচালক মুনতাসির আকিব।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শহিদুল্লাহ ভবনের সামনে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শন উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক আরিফ হায়দার, অভিনেতা মিঠু ও চলচ্চিত্রটির পরিচালক মুনতাসির আকিবসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অভিনেতা মিঠু বলেন, “আশির দশকে শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক আন্দোলন নব্বইয়ের দশকে এসে পূর্ণতা পায়। তার মতে, নব্বইয়ের দশক ছিল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ‘সোনালি যুগ’। সে সময়ের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ ও আন্দোলনের ইতিহাসকে কেন্দ্র করেই ‘চিরকুট’ নির্মাণ করা হয়েছে।”

“রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাস চলচ্চিত্রটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্র প্রথম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েই গড়ে উঠেছিল। সমকাল নৃত্যচক্রকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীদের সম্পৃক্ত করে চলচ্চিত্রটির কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে”, যোগ করেন তিনি।

মিঠু আরো বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাই সিনেমাটি তৈরি করেছে। নির্মাণের সময় নিজের অভিনয় দেখার সুযোগ হয়নি। পরে ডাবিং দিতে গিয়ে সিনেমাটির মান দেখেছি। প্রথমে ভেবেছিলাম, হয়তো খুব একটা ভালো হবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চমৎকার একটি কাজ হয়েছে।”

অধ্যাপক আরিফ হায়দার বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে ছোট-বড় অনেক গল্প রয়েছে।” এসব গল্প নিয়ে নির্মাতাকে আরো কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, “তিন বছর ধরে অনেক কষ্ট করে এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা সিনেমাটি দেখার জন্য কিছুটা সময় দেব। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে আরো অনেক গল্প সামনে আসতে পারে। আপনি মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবেন।”

চলচ্চিত্রটির মুক্তির বিষয়ে পরিচালক মুনতাসির আকিব বলেন, আগামী ১৬ অক্টোবর, দুর্গাপূজার ষষ্ঠীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সাতটি দেশে ‘চিরকুট’ মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশগুলো হলো—অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় তিন বছর সময় লেগেছে সিনেমাটি নির্মাণে। কারিগরি বিভিন্ন সমস্যার কারণে প্রথম ধাপে চলচ্চিত্রটির কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

মুনতাসির আকিব জানান, চলচ্চিত্রটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা। এছাড়া, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থী চলচ্চিত্রটির অভিনয়, নির্মাণ ও অন্যান্য কাজে যুক্ত ছিলেন। সিনেমাটি নির্মাণে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজশাহীতে চলচ্চিত্রশিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে পরিচালক মুনতাসির আকিব বলেন, “রাজশাহী একটা আলাদা ইন্ডাস্ট্রি হতে পারে। রাজশাহীর মানুষজন খুবই সহযোগিতাপরায়ণ। এখানে কাজ করতে গিয়ে অসম্ভব সাপোর্ট পেয়েছি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ঢাকার পাশাপাশি রাজশাহীকেও গড়ে তোলার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।”