বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের স্ত্রী ফারহানা রহমানসহ তিনজনের সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ ও অস্বাভাবিক ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগ যাচাই করতে তাঁদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুদক জানায়, দুর্জয়ের স্ত্রী ফারহানা রহমানের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১ কোটি ৩১ লাখ ৬৭ হাজার ১১৭ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের বাইরেও তাঁদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ থাকতে পারে এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

একই অভিযোগে সম্পদ বিবরণী দিতে বলা হয়েছে মানিকগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জনিকেও। তাঁর নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৬৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৪৮ টাকার সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক।

অপর ব্যক্তি মো. আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অবৈধ বালু ব্যবসা, দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্থ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে তাঁর নামে থাকা ১৪টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৮৬ কোটি ৮০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪৯ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদক বলছে, আবুল বাশারের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে আরও স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে তাঁর সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্‌ঘাটন এবং সম্পদ অর্জনের উৎস যাচাইয়ে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুদক আরও জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় তাঁদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে এ এম নাইমুর রহমান দুর্জয়ের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা রয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।