প্রথমবার বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে এসেই সবাইকে চমকে দিয়েছে কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে একবারও হারেনি আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি। এবার তাদের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ—শেষ ৩২-এ প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে শক্তির পার্থক্য নিয়ে ভীত নন কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা। দলটির কাছে অসম্ভব কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

হিউস্টনে সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে কেপ ভার্দে। আগামী ৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে নামবে দলটি। নকআউট নিশ্চিতের পর দেশের পতাকা গায়ে জড়িয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা বুবিস্তা আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই। আমাদের দল যা করেছে, তা নিয়ে আমরা এবং কেপ ভার্দের মানুষ গর্বিত হওয়া উচিত।’

বিশ্বকাপ ইতিহাসে জনসংখ্যার বিচারে তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দের জনসংখ্যা ছয় লাখেরও কম। দেশের অসংখ্য মানুষ গভীর রাত পর্যন্ত জেগে দলের ম্যাচ দেখেছেন। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেই গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই ড্র করেছে কেপ ভার্দে। এর মধ্যে প্রথম ম্যাচে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে আলোচনায় আসে আফ্রিকানরা।

এবার সেই কেপ ভার্দের প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট আর্জেন্টিনা। তবে এটিকে শুধু একটি ম্যাচ হিসেবে দেখছেন না বুবিস্তা। লা আলবিসেলেস্তেদের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়ে গর্বিত তিনি, ‘সবার আগে, আমরা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পারব—এটাই আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। অবশ্যই আমাদের দল, খেলোয়াড় এবং দেশের মানুষের জন্য এটি আনন্দের উপলক্ষ। শুরু থেকেই আমরা বলেছি, আমাদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বিশ্বের সামনে আমাদের দেশকে তুলে ধরা। এমন একটি পর্যায়ে আর্জেন্টিনা ও মেসির বিপক্ষে খেলতে পারা আমাদের দেশের জন্য দারুণ ব্যাপার, ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন।’

বুবিস্তার বিশ্বাস, কেপ ভার্দের এই সাফল্য শুধু তাদের দেশের জন্য নয়, বিশ্বের ছোট দেশগুলোর জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করি। তবে আমরা আফ্রিকারও প্রতিনিধিত্ব করি। তার চেয়েও বড় কথা, আমরা বিশ্বের ছোট ছোট দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব করি।’

দলের সাফল্যের রহস্যও জানালেন বুবিস্তা, ‘এটাই আমাদের দায়িত্ব। আমরা প্রমাণ করেছি, লক্ষ্য স্থির রেখে নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করলে একসময় না একসময় কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব।’