যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে এক বিরল রেকর্ডের সাক্ষী হলো ব্রাজিল। ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও তা হাতছাড়া করে সেলেসাওরা। ১৩তম মিনিটে ব্রুনো গিমারেসের নেওয়া পেনাল্টি দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড। ব্রাজিলের আক্রমণভাগ শুরু থেকেই নরওয়ের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করলেও নিল্যান্ডের এই দুর্দান্ত সেভ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ম্যাচের ১০ মিনিটে এক জোরালো পাল্টা আক্রমণে উঠে আসে ব্রাজিল। সে সময় বক্সের ভেতরে মাতেউস কুনহাকে ফাউল করে বসেন নরওয়ের ডিফেন্ডার ক্রিস্টোফার আইয়ার। তবে প্রথমে কোনো ফাউলের বাঁশি বাজাননি ম্যাচ রেফারি। পরে রিপ্লেতে ঘটনাটি স্পষ্ট হওয়ায় ভিএআরের (VAR) পরামর্শে সাইডলাইন মনিটরে গিয়ে পুরো ঘটনাটি পুনরায় দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পেনাল্টি নিতে এগিয়ে যান ব্রুনো গিমারায়েস। বলটি ভিনিসিয়ুসের কাছ থেকে তাকে ছেড়ে দেন সতীর্থরা। রান-আপে গতি কমিয়ে গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন ব্রুনো। তবে সঠিক দিক আন্দাজ করে অসাধারণ এক সেভ করেন ওরইয়ান নিল্যান্ড। ফলে ব্রাজিলকে লিড নিতে দেননি নরওয়ের এই গোলরক্ষক। এই পেনাল্টি মিসের মধ্য দিয়ে চার দশকের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড ভেঙেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে জিকোর পেনাল্টি মিসের পর বিশ্বকাপের মূল সময়ে অর্থাৎ টাইব্রেকার বাদে আর কোনো ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় পেনাল্টি মিস করেননি। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে ম্যাচ চলাকালে এটি ব্রাজিলের মাত্র চতুর্থ পেনাল্টি মিস। দীর্ঘদিন ধরে স্পট কিক থেকে দুর্দান্ত সাফল্য ধরে রাখা সেলেসাওদের জন্য এটি যেমন একটি বিরল ও হতাশাজনক ঘটনা, অন্যদিকে নরওয়ের গোলরক্ষক নিল্যান্ডের জন্য এটি এক স্মরণীয় মুহূর্ত। ব্রুনো গিমারেসের জোরালো শট ঠেকিয়ে তিনি শুধু দলকে নিশ্চিত গোল হজম থেকে বাঁচাননি, বরং বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নিজের নাম লিখিয়ে নিলেন বিশেষ এক কীর্তির অংশ হিসেবে।
রাজনীতি
নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের চার দশকের রেকর্ড ভাঙল

শেয়ার করুন







