দেশে নারী স্বাস্থ্য ও কল্যাণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে ডিজিটাল স্বাস্থ্য অ্যাপ চালু এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি তরুণ চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক উচ্চতর প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, ‘নারী স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে আমাদের দল সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জন্য আমাদের যে ম্যান্ডেট দিয়েছেন, আমরা তাদের দোরগোড়ায় সেই সেবা পৌঁছে দেবো।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘হার হেলথ বাংলাদেশ: নারীদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ ত্বরান্বিতকরণ—জাতীয় মাতৃস্বাস্থ্য এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার কর্মসূচি শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক-এর যৌথ অর্থায়নে এবং ইউএনএফপিএ-এর সহযোগিতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করে। সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড জিয়া হায়দার।

প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত তার বক্তব্যে কর্মসূচির রূপান্তর ও প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রজেক্টের ‘ডিজিটাল হেলথ অ্যান্ড ইনোভেশন’ স্তম্ভটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এই কর্মসূচির আওতায় এমন একটি দ্বি-মুখী ডিজিটাল অ্যাপ তৈরি করা প্রয়োজন, যার একটি ইন্টারফেস ব্যবহার করবেন রোগীরা এবং অন্যটি ব্যবহার করবেন সেবাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা। এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের ডেটা বা তথ্য যেমন সহজে সংগ্রহ করা যাবে, ঠিক তেমনি রোগীরাও অ্যাপের মাধ্যমে তাদের পরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলো-আপ রিমাইন্ডার ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক শিক্ষা লাইভ ও সরাসরি পেয়ে যাবেন।

চিকিৎসক ও মাঠকর্মীদের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই বিশাল মাঠ পর্যায়ের কর্মীবাহিনীকে স্তন ক্যানসার ও ফিস্টুলা স্ক্রিনিংয়ের বিষয়ে সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। এর পাশাপাশি তরুণ সার্জনদের জন্য সার্জিক্যাল ট্রেনিং এবং ডাক্তারদের জন্য ক্যানসার থেরাপির বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের বিষয়টি এই প্রজেক্টে সুনির্দিষ্টভাবে থাকা উচিত।’ তিনি ইউরোপীয় বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোলাবোরেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ চিকিৎসকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ফেলোশিপের সুযোগ তৈরি করতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন।

সেমিনারে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়া হায়দার তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা ঢেলে সাজানোর একটি যুগান্তকারী রূপরেখা তুলে ধরেন।

ড. জিয়া বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমাদের বর্তমানে তিন ধরণের ফ্রন্টলাইন কর্মী রয়েছেন। আমরা এদের সবাইকে একত্রিত করে 'কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার' নামে একটি একক ও সমন্বিত বাহিনী গড়ে তুলছি। নতুন এক লক্ষ সহ দেশের মোট ১ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী প্রতি দুই মাসে অন্তত একবার দেশের প্রতিটি পরিবার পরিদর্শন করবেন এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক সেবা নিশ্চিত করবেন।’

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) শাহ ইমাম আলী রেজা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন ক্যামকং এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম সহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

এসইউজে/এমএএইচ/