বিদায় নেওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান এবং রেকর্ড পরিমাণ লেনদেন হলেও নতুন অর্থবছরের (২০২৬-২৭) প্রথম কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে।

প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি মূল্যসূচকও কমেছে। সেইসঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে এ বাজারটিতেও মূল্যসূচক কমেছে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দাম কমায় লেনদেনের ১৫ মিনিটের মাথায় ডিএসইর প্রধান সূচক ২৫ পয়েন্ট কমে যায়।

এরপর বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ায় সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে লেনদেনের শেষদিকে আবার দাম কমার তালিকা বড় হয়। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৬৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮৫টির এবং ৪৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮২টির দাম কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩১টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৮টির এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৫টির এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৩টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৪৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬২ পয়েন্টে নেমে গেছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক ৮০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৬৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

প্রধান মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৩৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৫৭৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এ হিসেবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৩৪ কোটি ১১ লাখ টাকা।

এ লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৬৭ কোটি ১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬০ কোটি ৪৬ লাখ টাকার। ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সামিট এলায়েন্স পোর্ট।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- বেক্সিমকো, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস,আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সিটি ব্যাংক, আইটি কনসালটেন্টস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং সোনারগাঁও টেক্সটাইল।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৪২ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৪টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৬০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

এমএএস/এমএএইচ/