নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের সেলিম বাজার ও কালাদুর এলাকায় মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে বরাদ্দ করা জিও ব্যাগ ফেলার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়ম ও ঠিকাদারদের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সেলিম বাজার এলাকার নদীতীরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, চলতি বছরের ১৭ মে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যনি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেন। তবে বরাদ্দের পরও কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ইতিমধ্যে বহু বসতভিটা, কৃষিজমি, গাছপালা ও স্থানীয় অবকাঠামো ভাঙনের শিকার হয়েছে।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, ভাঙন রোধে ব্যবহৃত জিও ব্যাগে যে পরিমাণ বালু দেওয়ার কথা, তার পরিবর্তে বেশির ভাগ ব্যাগে অর্ধেক বা তারও কম বালু দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নদী ভাঙন রোধে ভাটার অংশে নিচে ব্যাগ ফেলার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জোয়ার এসে ওপরের যে অংশে বাধা পায়, সেখানে ব্যাগ ফেলছে। এতে ভাঙন রোধ না হয়ে উল্টো প্রতিদিন ভাঙন বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সেলিম বাজার ও সৈয়দপুর এলাকার নদীভাঙন রোধে ৪০০ মিটার করে মোট ৮০০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোস্তফা অ্যান্ড সন্স। প্রতিষ্ঠানটির মালিক জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শহীদুল ইসলাম কিরণ। তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক হলেও তার লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ দুটি করছেন জেলা বিএনপির দুই নেতা। তাঁদের পক্ষে কাজ পরিচালনা করছেন একই দলের সদস্য মো. ফরহাদ।

সূত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও নকশা সরবরাহ করা হয়নি। এর মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন পানি উন্নয়ন বোর্ডকে না জানিয়ে নিজেদের মতো করে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেন।

পরে সরেজমিনে গিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে বলে সূত্রটি জানায়। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. ফরহাদ জিও ব্যাগ ফেলার কাজে ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের আগ্রহের প্রেক্ষিতে তাঁরা কাজটি শুরু করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা তাঁদের কাজ বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মূল নকশা দেওয়া হয়নি। এখন বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর তাঁরা কাজ বন্ধ রেখেছেন। সমস্যা প্রকল্প স্থলে পন্টুন এনে কাজ শুরু করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিল বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী নকশা ছাড়াই তাদের খেয়ালখুশিমতো জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করে দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। শিগগিরই প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী সেখানে নতুন করে কাজ শুরু হবে।’