সুইডেনের বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচে ফ্রান্সের তিনটি গোলই হয়েছে ওলিসের পাসে। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে অপরাজিত ফ্রান্স। এই সাফল্যের কারিগর ছয় গোল করা কিলিয়ান এমবাপ্পে। কিন্তু গোল না করেও ফ্রান্সের আসল অস্ত্র ওলিসে। ইতোমধ্যে ছুঁয়ে ফেলেছেন ম্যারাডোনাকে। পেলে-মেসির রেকর্ডও ভাঙার মুখে। তবে কি ‘নতুন ম্যারাডোনা’কে পেয়ে গেল ফুটবল?
মূলত উইঙ্গার ওলিসে। কিন্তু ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম তাকে খেলাচ্ছেন ‘নাম্বার ১০’-এর ভূমিকায়। যে ভূমিকায় নজর কেড়েছেন ম্যারাডোনা থেকে মেসি। নতুন দায়িত্বে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছেন ওলিসে। বিশ্বকাপে চার ম্যাচে টানা জয় পেয়েছে ফ্রান্স। ১৩ গোল করেছে তারা। ছয় গোল করে এমবাপ্পে ধরে ফেলেছেন মেসিকে। এই গোলগুলোর পেছনে অবদান ওলিসের। এমবাপ্পের পেছনে খেলে দুরন্ত স্কিল ও গতির ঝলকে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙা এবং একের পর এক সুযোগ তৈরির আসল কাজটা করছেন ওলিসে।
সুইডেন ম্যাচের পর বিশ্বকাপে ওলিসের অ্যাসিস্ট হলো পাঁচটি। একবিংশ শতাব্দীতে একটি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের নজির এটি। সর্বকালের তালিকায় তিনি এখন যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। ছুঁয়ে ফেলেছেন দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং আরও চার কিংবদন্তিকে। এক বিশ্বকাপে প্রত্যেকেই করেছেন পাঁচটি অ্যাসিস্ট। ওলিসের সামনে এখন শুধু কিংবদন্তি পেলে। ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলে করেছিলেন ছয়টি অ্যাসিস্ট।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়ার সুযোগ রয়েছে ওলিসের সামনে। মেসি ও ম্যারাডোনা আটটি অ্যাসিস্ট করে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। ওলিসের অ্যাসিস্ট পাঁচটি। আরও তিনবার গোল বানিয়ে দিলে ইতিহাস গড়ে ফেলবেন তিনি। বিশ্বকাপে এখনো একটিও গোল করেননি। তবে একের পর এক নিখুঁত অ্যাসিস্ট ও নজরকাড়া স্কিলে ওলিসে প্রমাণ করেছেন, ফ্রান্সের আক্রমণের আসল কারিগর তিনিই।
অন্তর্মুখী অলিসে আরেক ফরাসি জাদুকর : বিশ্বকাপ শিরোপার অন্যতম দাবিদার ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলের পাশাপাশি আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন মাইকেল অলিসে। প্রচারবিমুখ অলিসের মাঠে সৃজনশীলতা, নিখুঁত পাস ও অসাধারণ ফুটবলবোধে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে দিদিয়ের দেশমের দল। লন্ডনে জন্ম নেওয়া অলিসের বাবা নাইজেরিয়ান, মা ফরাসি-আলজেরীয়। ফরাসি ভাষায় তিনি স্বাচ্ছন্দ্য নন। এমবাপ্পের সঙ্গে তার দারুণ বোঝাপড়াই এখন ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি। মঙ্গলবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। চার ম্যাচে ১৩ গোল করে অনায়াসে নিশ্চিত করেছে শেষ ষোলোর টিকিট। পরের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত লিওনেল মেসির সমান সর্বোচ্চ ছয় গোল করেছেন এমবাপ্পে। আগের ম্যাচে উসমান দেম্বেলে করেছিলেন হ্যাটট্রিক। সুইডেনের বিপক্ষে এমবাপ্পে করেন জোড়া গোল, অন্যটি ব্র্যাডলি বার্কোলার। তবে ম্যাচের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরমার ছিলেন অলিসে। দুটি গোলে সহায়তা করে তিনি এখন চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা। এমবাপ্পে ও দেম্বেলের পাশাপাশি অলিসেও হয়ে উঠেছেন ফ্রান্সের আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। গোল না পেলেও নিজের নৈপুণ্যে মুগ্ধ করছেন সবাইকে। ম্যাচের শুরুতেই তার দৃষ্টিনন্দন বাইসাইকেল কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সেই মুহূর্তে বিস্মিত হয়েছিলেন এমবাপ্পেও। ফরাসি অধিনায়ক বলেন, ‘এটা অসাধারণ দক্ষতার প্রদর্শন। দুর্ভাগ্য, বলটি জালে যায়নি। তবে দর্শকরা এমন মুহূর্ত দেখতেই মাঠে আসে।’ ফ্রান্সের এই আক্রমণাত্মক রূপের সূচনা গত বছরের মার্চে নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। প্রথম লেগে ২-০ গোলে হারের পর দ্বিতীয় লেগে কৌশল বদলান দেশম। একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডারের বদলে এমবাপ্পের পেছনে ১০ নম্বর ভূমিকায় খেলান অলিসেকে। সেই ম্যাচেই দুর্দান্ত ফ্রিকিকে গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান তিনি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে ‘লে ব্লু’। ২৪ বছর বয়সি অলিসে এরপর ধীরে ধীরে ফ্রান্সের নিয়মিত একাদশে জায়গা পাকা করেন। ক্লাব পর্যায়ে বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতেও ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এ মৌসুমে করেছেন ২২ গোল। বিশ্বকাপের আগে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে নিজের ফর্মের জানান দেন। তার প্রশংসায় দেশম বলেন, ‘মাইকেলকে আমাদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লেগেছিল।’








