রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের পর বঙ্গভবন ছেড়ে গুলশানের নিজ বাসভবনে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মো. সাহাবুদ্দিন। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়লেও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আমৃত্যু মাসিক অবসরভাতা, চিকিৎসা ও প্রটোকলসহ বেশ কিছু সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন ২২তম এই সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান।
সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী দায়িত্ব ছাড়ার পর একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি কী কী সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন এবং বঙ্গভবন ছাড়ার পর মো. সাহাবুদ্দিনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে যাচ্ছে—তার একটি চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।
‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন’ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কমপক্ষে ছয় মাস রাষ্ট্রপতির পদে দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করলে বা মেয়াদ শেষ হলে সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে আমৃত্যু মাসিক অবসরভাতা পাবেন।
‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রিমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫ (মে ২০১৬ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে অবসরগ্রহণের পর মো. সাহাবুদ্দিন প্রতি মাসে ৯০ হাজার টাকা অবসরভাতা পাবেন।
আইন অনুযায়ী, সাবেক রাষ্ট্রপতি অবসরভাতার পরিবর্তে এককালীন অর্থ বা আনুতোষিকও (গ্র্যাচুইটি) গ্রহণ করতে পারেন। তবে তার জন্য প্রাধিকার অর্জনের এক মাসের মধ্যে লিখিত ইচ্ছা প্রকাশ করতে হয়। এ ছাড়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি অবসরভাতা নেওয়া অবস্থায় মারা গেলে তাঁর জীবিত স্ত্রী আমৃত্যু প্রাপ্য অবসরভাতার দুই-তৃতীয়াংশ হারে মাসিক ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবেন।
অবসরভাতার পাশাপাশি একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর পরিবারের জন্য বেশ কিছু প্রশাসনিক ও নাগরিক সুবিধার বিধান রয়েছে:
সহকারী ও দাপ্তরিক ব্যয়: একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) ও একজন সাহায্যকারী পাবেন। দাপ্তরিক ব্যয়ের জন্য সরকার নির্ধারিত বার্ষিক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
চিকিৎসাসুবিধা: সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর স্ত্রী একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমপরিমাণ সরকারি চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।
যোগাযোগ ও পরিবহন: সরকারি অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বিনা খরচে সরকারি যানবাহন ব্যবহার, বাসভবনে একটি টেলিফোন সংযোগ এবং সরকার নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত বিল মওকুফের সুবিধা থাকবে।
কূটনৈতিক পাসপোর্ট ও আবাসন: সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তাঁর স্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাবেন। পাশাপাশি দেশের ভেতরে ভ্রমণের সময় সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্টহাউসে বিনা খরচে অবস্থানের সুযোগ পাবেন।
আইনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রাপ্ত এসব সুযোগ-সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে:
১. পদে থাকা শেষে রাষ্ট্রীয় সংযুক্ত তহবিল থেকে বেতন বা অন্য সুবিধা পাওয়া যায়—এমন কোনো পদে পরবর্তীতে দায়িত্ব পালন করলে।
২. আদালত কর্তৃক নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হলে।
৩. উচ্চ আদালত কর্তৃক তাঁর রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠানকে অসাংবিধানিক বা অবৈধ ঘোষণা করা হলে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে গুঞ্জন উঠলেও রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন।
তিনি জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনেই অবস্থান করছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগ ধরা পড়ায় তিনি সম্প্রতি কয়েকবার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন।
প্রেস সচিব আরও জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আগামী ছয় মাস মো. সাহাবুদ্দিন প্রয়োজনীয় প্রটোকল সুবিধা পাবেন। আজ শনিবার বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিদায়ী বৈঠক শেষে রোববারই তিনি বঙ্গভবন ছেড়ে গুলশান-১ নম্বরের নিজ ফ্ল্যাটে উঠবেন। পরবর্তীতে তিনি চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনে দেশে কিংবা সিঙ্গাপুরে যেতে পারেন বলে বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের সময় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ থাকার কথা ছিল।








