ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ছোট কামারকুন্ডু গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী খন্দকার সুলতান আহমেদের জেলা পুলিশ লাইনসের সামনে একটি ওয়েল্ডিংয়ের দোকান ছিল। পাশাপাশি তিনি ঠিকাদারি করতেন। চুয়াডাঙ্গার একটি ঠিকাদারি কাজের কিছু টাকা চঞ্চল বিশ্বাসের কাছে পেতেন সুলতান। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বলছে, এই বিরোধের জেরে ২০১৩ সালের ২৯ জুন সন্ধ্যায় মুঠোফোনে সুলতানকে ডেকে নেন চঞ্চল। পরদিন সকালে সদর উপজেলার উদয়পুর গ্রামের মাঠ থেকে তাঁর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সুলতানের স্ত্রী ইয়াসমিন সুলতানা বাদী হয়ে চঞ্চল বিশ্বাসকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি।

প্রায় ১৩ বছর পর গতকাল বুধবার রাতে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে চঞ্চল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার চঞ্চল বিশ্বাস ঝিনাইদহ শহরের ভুটিয়ারগাতী এলাকার জহর বিশ্বাসের ছেলে।

আখতার হোসেন, পরিদর্শক, সিআইডি, ঝিনাইদহমামলার তদন্তভার পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামি চঞ্চলের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামি তাঁর নাম পরিবর্তন করে সুজা বিশ্বাস রেখে আশুলিয়া এলাকায় ব্যবসা করে আসছিলেন। আসামি চঞ্চলকে সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ সিআইডির পরিদর্শক আখতার হোসেন বলেন, মামলার পর থেকেই পলাতক ছিলেন চঞ্চল বিশ্বাস। তদন্ত শেষে চঞ্চল বিশ্বাস ও জাহাঙ্গীর আলম নামের দুজনকে অভিযুক্ত করে ২০১৫ সালের ১৭ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। আসামিরা মামলাটির বিচার ও তদন্ত কার্যক্রম উচ্চ আদালতের মাধ্যমে স্থগিত করে রাখেন। পরে সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় সিআইডিকে তদন্তভার দেন আদালত। বর্তমানে মামলাটি তদন্ততাধীন রয়েছে।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামি চঞ্চলের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামি তাঁর নাম পরিবর্তন করে সুজা বিশ্বাস রেখে আশুলিয়া এলাকায় ব্যবসা করে আসছিলেন। আসামি চঞ্চলকে সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

আখতার হোসেন আরও বলেন, পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে নাম থাকা অপর আসামি জাহাঙ্গীর আলম ২০২২ সালে মারা গেছেন।