এলডিসি থেকে টেকসই ও সুশৃঙ্খল উত্তরণ নিশ্চিত করতে ২৫টি অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, ডিরেগুলেশন, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি এবং প্রস্তুতিকাল সম্প্রসারণের যৌক্তিকতা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর উদ্দেশ্য উত্তরণ বিলম্বিত করা নয় বরং একটি টেকসই, স্থিতিশীল ও কার্যকর অর্থনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত করা। অতিরিক্ত সময় চাওয়ার লক্ষ্য কোনো ধরনের বিলম্ব নয়; বরং প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে উত্তরণ নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বর্তমান সরকার জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে। প্রস্তুতিকালে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নসহ একাধিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এসব কারণে সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। তাই সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হচ্ছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে ২৫টি অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার সমন্বিত একটি রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। এতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্কার, ডিরেগুলেশন, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলডিসি উত্তরণের জন্য পুরোপুরি অনুকূল নয়। সে কারণে অতিরিক্ত প্রস্তুতির সময় প্রয়োজন।’ সেমিনারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, সরকার নাজুক অর্থনীতি ও দুর্বল আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কাজ করছে। এজন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা প্রয়োজন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, কাঠামোগত ও আন্তর্জাতিক ঝুঁকি-চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে টেকসই এলডিসি উত্তরণের জন্য সময়াবদ্ধ সংস্কার রোডম্যাপ উপস্থাপন করেন। সেমিনারে অংশ নেওয়া রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা টেকসই এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আর্থিক খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং করের আওতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ অবস্থায় সংস্কারের গতি ধরে রাখা জরুরি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ কাজে লাগাতে বাজার উন্মুক্তকরণ এবং প্রতিযোগিতার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।