পঞ্চাশ পেরিয়েও তারুণ্য যেন এখনো অটুট। মেদহীন ফিট শরীরের পাশাপাশি শিল্পা শেট্টির উজ্জ্বল ও টানটান ত্বক অনেকের কাছেই ঈর্ষণীয়। নিয়মিত যোগব্যায়াম তার সুস্থতার অন্যতম রহস্য হলেও, ত্বকের যত্নে তিনি অনুসরণ করেন বেশ কিছু সহজ ঘরোয়া অভ্যাস।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শিল্পা জানান, তিনি জীবনে কখনও মুখে সাবান ব্যবহার করেননি। তার কথায়, ‘আমি কখনো মুখে সাবান লাগাইনি। আমার মা-ও ব্যবহার করতেন না। আমার মতে, ত্বকের জন্য সবচেয়ে ভালো পরামর্শ হলো মুখে সাবান না লাগানো।’ এছাড়া তিনি কোল্ড-প্রেসড তেল, বিশেষ করে ক্যাস্টর অয়েল, ত্বকের যত্নে ব্যবহার করেন।

কেন মুখে সাবান ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়?
মুখের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি কোমল ও সংবেদনশীল। সাধারণ সাবান ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক পিএইচের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। পাশাপাশি ত্বকের স্বাভাবিক তেলের স্তর বা প্রোটেকটিভ ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ ও খসখসে হয়ে যেতে পারে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত সাবান ব্যবহারে সংবেদনশীলতা বেড়ে যাওয়া, জ্বালাপোড়া অনুভব করা কিংবা এগজিমার মতো সমস্যাও তীব্র হতে পারে।

তাহলে সাবান কখন ব্যবহার করবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবান মূলত শরীর পরিষ্কারের জন্য উপযোগী, মুখের জন্য নয়। তবে শরীরেও প্রতিবার সাবান ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়। এর পরিবর্তে মৃদু শাওয়ার জেল বা বডি ওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে।
যদি সারাদিন ধুলোবালি, দূষণ বা অতিরিক্ত ঘামের মধ্যে থাকতে হয়, তাহলে গোসলের সময় সাবান ব্যবহার করা উপকারী। বিশেষ করে বগল, পায়ের পাতা এবং যেসব অংশে ঘাম বেশি হয়, সেগুলো সাবান দিয়ে পরিষ্কার রাখা জরুরি।

ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্লিনজার বেছে নিন
শুষ্ক ত্বক: গ্লিসারিন বা সিরামাইড সমৃদ্ধ হাইড্রেটিং ক্রিম বা লোশন ক্লিনজার ব্যবহার করুন।
তৈলাক্ত ও ব্রণ-প্রবণ ত্বক: স্যালিসিলিক অ্যাসিডযুক্ত হালকা জেল বা ফোমিং ক্লিনজার উপযোগী।
কম্বিনেশন ত্বক: ত্বকের ভারসাম্য বজায় রাখে এমন মাইল্ড ব্যালান্সড ক্লিনজার বেছে নিন।
সংবেদনশীল ত্বক: নিয়াসিনামাইড বা অ্যালোভেরা সমৃদ্ধ, সুগন্ধিবিহীন ও কম ফেনাযুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করাই ভালো।
মনে রাখতে হবে, ত্বকের যত্নে একেকজনের প্রয়োজন একেক রকম। তাই কোনও সৌন্দর্য-পরামর্শ অনুসরণ করার আগে নিজের ত্বকের ধরন ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
জেএস/








