সারাদেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় এ পরীক্ষা শুরু হয়। চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত।
প্রথম দিনে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি (বিএম) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

পরীক্ষার প্রথম দিনে রাজধানীর বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে সিলেবাস ও যানজট নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগের কথা জানা গেছে।
তারা বলছেন, হঠাৎ পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে ফিরে আসা এবং রাজধানীর তীব্র যানজট শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে। ভবিষ্যতে সিলেবাসের বিষয়ের অন্তত এক বছর আগে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন
বাইরে বৃষ্টি, যানজটে রিকশাও নড়ে না, মেয়েকে নিয়ে হেঁটে কেন্দ্রে এসেছি
রাজধানীর একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবক সুবর্ণা বিশ্বাস বলেন, তার ছেলে অন্ত বিশ্বাস দীপন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এক-দুই মাস আগে নয়টি শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্ন ও একই সিলেবাস চালু করা ঠিক হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও এতে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
সুবর্ণা বিশ্বাস বলেন, ‘সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট থাকায় অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি। তবে কেন্দ্রের বাইরে দায়িত্বরত পুলিশ ও শিক্ষকদের আন্তরিকতায় ২০-৩০ মিনিট দেরি হলেও অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে।’

ভবিষ্যতে পরীক্ষার দিনগুলোতে যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শাহজাহানপুরের মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষমাণ অভিভাবক সিরাজুল ইসলাম জানান, তার ছেলে আল আমিন ইসলাম সিদ্ধেশ্বরী কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
অভিভাবক আরাব ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে কথা বলেন, এতে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়। তারা এখনও ছোট, তাদের ভালোবাসা ও উৎসাহ দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। হঠাৎ সিলেবাস পরিবর্তনের কারণেও অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।’
আরেক অভিভাবক কামরুজ্জামান বলেন, ‘নতুন সিলেবাস এ বছর নয়, ২০২৭ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য চালু করা উচিত ছিল।’
আরও পড়ুন
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বসেছেন ১২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী
তার ভাষায়, ‘হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপে রয়েছে। এ বছর আগের সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া উচিত ছিল। যদি পরিবর্তন করতেই হয়, তাহলে অন্তত এক বছর আগে ঘোষণা দেওয়া উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতির সুযোগ পায়।’
অপর অভিভাবক ময়না নাহার বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী ভালো মানুষ, কিন্তু শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনেক সময় কঠোর মন্তব্য করেন। ভয় না দেখিয়ে তাদের উৎসাহ দেওয়া উচিত। হঠাৎ সিলেবাস পরিবর্তনের মতো সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও উদ্বিগ্ন করে তোলে। ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত।’
চলতি বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ইএআর/বিএ








