চট্টগ্রামের পটিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে দুই প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ। একটি বাড়ি থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্কও নিয়ে গেছে ডাকাত দল।

গতকাল রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের পূর্ব আজিমপুর আলী মিয়ার বাপের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বাড়িটি প্রবাসী মোহাম্মদ সিরাজ ও মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী নুরুল ইসলামের বাবা পেশায় কৃষক। রাতে বাড়ির পাশে ফসল পাহারা দিতে ঘর থেকে বের হলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ডাকাত দল ঘরে ঢোকে। প্রথমে তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিলেও পরে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে।

ডাকাত দল ওই বাড়ি থেকে প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৩০ হাজার টাকা লুট করে বলে অভিযোগ। পরে গলায় ছুরি ধরে নুরুল ইসলামের মা রাজিয়া বেগমকে পাশের প্রতিবেশী সিরাজের ঘরের দরজা খুলতে বাধ্য করা হয়।

ওই ঘরেও পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে আরও প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২০ হাজার টাকা লুট করা হয়। পরে দ্বিতীয় তলায় সংরক্ষিত সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্কও নিয়ে যায় ডাকাত দল।

প্রবাসী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘তাঁরা প্রথমে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয়। পরে আমি বুঝতে পারি, তাঁরা ডাকাত। তাঁদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করলে আমাকে চড়-থাপ্পড় দিতে শুরু করে। তাঁদের সবার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র ছিল।’

স্থানীয় বাসিন্দা ফাহিম বলেন, ডাকাত দল চলে যাওয়ার পর প্রতিবেশী নুরুল ইসলাম তাঁদের বাড়িতে এসে ডাকাতির খবর দেন। পরে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের সবকিছু এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে গত ২৬ আগস্ট গভীর রাতে কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য প্রবীর ভট্টাচার্যের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই সময় আলমারি ভেঙে নগদ প্রায় সাড়ে ৭ লাখ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টাকা এবং ৫ থেকে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয় বলে অভিযোগ।

তারও আগে ২৫ জুলাই ভোরে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের এয়াকুবদণ্ডী গ্রামে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২৫ হাজার টাকা লুট করা হয়। গত ২৩ এপ্রিল পটিয়ায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চারটি গরু ও নগদ ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লুটের ঘটনা ঘটে। লুট হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে পটিয়ায় একের পর এক ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও এসব ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ অবস্থায় এলাকায় ডাকাতির ঘটনা বেড়েই চলেছে।