যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এই হাইভোল্টেজ ফাইনালটি কেবল দুটি ফুটবল পরাশক্তির শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই-ই নয়; এটি স্প্যানিশ ঘরোয়া লিগ ‘লা লিগা’র তারকাদের এক অসাধারণ মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত দ্বন্দ্বও বটে।

দুই দলের স্কোয়াড মিলিয়ে ১৫ জন লা লিগার ফুটবলার একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। মজার ব্যাপার হলো, এদের একটি বড় অংশই স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের। ফলে বৈশ্বিক মঞ্চের এই মহারণ যেন এক চিলতে ‘কলচোনেরো’ ডার্বির আবহও তৈরি করেছে।

দুই দলের রক্ষণভাগেই লা লিগার চেনা মুখদের আধিপত্য। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা ডান প্রান্তের মলিনা। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের এই ডিফেন্ডার সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পুরো ম্যাচ খেলে দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন।

অন্যদিকে, স্পেনের ডাগআউটে প্রস্তুত থাকবেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের তারকা মার্কোস লোরেন্তে ও মার্ক পুবিল। যারা সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বদলি হিসেবে নেমে দলের রক্ষন সামলিয়েছেন। মলিনা এবং লোরেন্তের মুখোমুখি টক্কর ফাইনালের অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে পারে।

মাঝমাঠের দখল যার, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তার। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের সংযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের থিয়াগো আলমাদা।

অন্যদিকে, স্পেনের মাঝমাঠের ইঞ্জিন সচল রেখে আসছেন লা লিগার পরীক্ষিত সৈনিকেরা। ভিয়ারিয়ালের অ্যালেক্স বায়েনা টুর্নামেন্ট জুড়েই স্পেনের আক্রমণের অন্যতম রূপকার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। মাঝমাঠের এই লা লিগা কানেকশনই নির্ধারণ করে দিতে পারে শিরোপার ভাগ্য।

আক্রমণভাগে দুই দলেই রয়েছে লা লিগার রথী-মহারথীরা। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের নেতৃত্বে আছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সুপারস্টার হুলিয়ান আলভারেজ এবং দলের অন্যতম গতিময় উইঙ্গার নিকোলাস গঞ্জালেজ। সেমিফাইনালে আলভারেজের যে বিধ্বংসী রূপ ছিল তা স্প্যানিশ রক্ষণভাগের জন্য বড় সতর্কবার্তা।

বিপরীতে, স্পেনের আক্রমণে ধার বাড়াচ্ছেন বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের একঝাঁক তারকা। ক্লাবে যারা একে অপরের চেনা মুখ, আন্তর্জাতিক মঞ্চে তারা একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতায় নামবেন।

যে ফুটবলাররা সারা বছর স্প্যানিশ লিগে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেন, বিশ্বকাপের ফাইনালে তারা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। এই লড়াই সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চ ছড়াবে হয়তো আথলেতিকো মাদ্রিদের কোচ ডিয়েগো সিমিওনেকে।

সিমিওনে নিশ্চয়ই টেলিভিশনের সামনে এক মিশ্র অনুভূতি নিয়ে বসবেন; কারণ কাপ যার হাতেই উঠুক, দিনশেষে হাসিটা হাসবেন তারই কোনো না কোনো প্রিয় শিষ্যেরাই। ক্লাব ফুটবলের বন্ধুত্ব ভুলে আন্তর্জাতিক শ্রেষ্ঠত্বের এই লা লিগা বনাম লা লিগা দ্বৈরথই বিশ্বকাপের ফাইনালকে দিচ্ছে এক ভিন্ন মাত্রা।

আরআই/আইএন