চাঁদপুর সেচ প্রকল্পভুক্ত ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সেচ খাল দখল করে দোকানপাট নির্মাণের কারণে সেচের পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের চৌরাঙ্গী বাজারের মূল সড়কের দক্ষিণ পাশ দিয়ে সেচ খালটি প্রবাহিত হয়েছে। দুই ইউনিয়নের অংশে পাকা-আধা পাকা ৩১টি দোকান অবৈধভাবে নির্মাণের কারণে পানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু চৌরাঙ্গী বাজার নয়, একই ইউনিয়নের আমিরা বাজার, গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের আষ্টা বাজার, গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের খাজুরিয়া বাজার, লতিফগঞ্জ বাজারে খালের উপর এবং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নে গল্লাক বাজারে ডাকাতিয়া নদীর তীর দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। সাধারণ কৃষকদের দাবি, দ্রুত অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে পানি সরবরাহের পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা। স্থানীয় সূত্র জানায়, পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের চৌরঙ্গী বাজারে ২০০৪ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে প্রভাব খাঁটিয়ে খালের জায়গা দখল করে এসব দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ তালিকায় যাদের নাম রয়েছে-প্রয়াত চেয়ারম্যান মহসিন পাটওয়ারী, আওয়ামী লীগ নেতা মহিন উদ্দিন, মনির মোল্লা, ইমান মোল্লা, বিএনপি নেতা শাহীন মোল্লা, জয়নাল মিজি, শহীদ মোল্লা, বাবুল মোল্লা, শাহ আলম মোল্লা, খোকন মোল্লা, খোরশেদ, জাহাঙ্গীর শেখ, মনা পাটওয়ারী, বুলু মাস্টারসহ আরও অনেকে। অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের দাবি, সরকার থেকে লিজ নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। যদিও বাস্তবে তাদের কোনো ধরনের লিজ নেওয়ার কাগজপত্র নেই। একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোড়কে এক শ্রেণির লোক খালের পাড় দখল করে অবৈধ দোকানপাট গড়ে তুলছে। অন্যদিকে বিভিন্ন সংস্থাকে অর্থ দেওয়ার নামে কৌশলে অর্থ আদায় করছে।

অর্থ নেওয়ার কথা স্বীকার করে চৌরাঙ্গী বাজারের দোকান মালিকদের মধ্যে ‘বাবুল ইলেকট্রনিক্স’-এর স্বত্বাধিকারী বাবুল মোল্লা বলেন, সম্প্রতি কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়ার জন্য মহসিন পাটওয়ারীর ছেলে পাভেল পাটওয়ারীর কাছে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। তিনিই সব জানেন।’ চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, খালের অংশ লিজ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমরা ওই এলাকার অবৈধ স্থাপনার একটি তালিকা করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। তালিকা অনুমোদন পেলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।