ফরিদপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) থাকা ষষ্ঠ শ্রেণির এক কিশোরী ২৭ সপ্তাহ ২ দিনের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ৬ জুলাই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। মামলার একমাত্র আসামি মো. ওয়াহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শিশু পরিবারের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ৮ জুলাই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
মামলার বাদী ফরিদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও শিশু নিবাসের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন। `দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ' এনে ৬ জুলাই তিনি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীটি শহরের টেপাখোলা এলাকার একটি স্কুলে পড়ে। শিশু পরিবার থেকে স্কুলে যাতায়াতের সুবাদে গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে ওই এলাকার এক দর্জির দোকানের মালিক মো. ওয়াহিদ শেখ (৫৪) তাকে চকলেট খাওয়ানোর কথা বলে ধর্ষণ করে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই ব্যক্তি তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। এর ফলে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়। শারীরিক জটিলতার কারণে ৬ জুলাই তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, সে ২৭ সপ্তাহ ২ দিনের গর্ভাবস্থায় রয়েছে।
এরপরই পুলিশ ৮ জুলাই সদর উপজেলার আদমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ শেখের ছেলে ওয়াহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ৮ জুলাই সমাজসেবা অধিদপ্তরের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত ব্যক্তিরা হলেন সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর আবির দাস, মেট্রন-কাম-নার্স মণি আক্তার, আয়া শামসুন্নাহার আক্তার এবং তানিয়া তাজরীন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-সচিব ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ৮ জুলাই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশে মেয়েটিকে সমাজসেবা বিভাগের অধীনে `নারী ও শিশু কিশোরী মহিলা হেফজতিদের আবাসন কেন্দ্রে' রাখা হয়েছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।








