চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, ফতোয়ার জন্য আর মাদ্রাসায় যেতে হবে না, ফতোয়া তো পার্লামেন্টেই দেওয়া হয়।
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে পেশকৃত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একথা বলেন।
বাজেট অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে শাহজাহান চৌধুরী ব্যবসায়ী তোষণ ও কৃষি-জ্বালানি খাতে অবহেলার অভিযোগ আনেন, এবং জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের জবাবে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি মন্তব্যের সূত্র ধরে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমাদের চট্টগ্রামের আরেক কৃতি সন্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আজকে আমাদের চট্টগ্রামে একটা কথা এসেছে ফতোয়ার জন্য আর মাদ্রাসায় যেতে হবে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন? কারণ ফতোয়া তো আপনাদের এই পার্লামেন্টেই দেওয়া হয়।
জামায়াতে ইসলামীকে ‘ইসলামী দল নয়’ মর্মে সরকারের একজন মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জামায়াত কী দল, তা জানতে ১০০ বছরের ইতিহাস জানতে হবে। এ নিয়ে সংসদে ফতোয়া দেওয়ার দরকার নেই। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমরা ফতোয়ার জন্য আর হাটহাজারী যাব না, পটিয়াও যাব না, লালবাগও যাব না। আমাদের এই মহান পার্লামেন্টে জামায়াত ইসলামীকে ‘ইসলামী দল নয়’ যিনি বলেন, তার কাছ থেকেই আমরা ফতোয়া নেব।
তিনি জামায়াতকে একটি গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক দল হিসেবে দাবি করে বলেন, দেশে ন্যায়, ইনসাফ ও বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।
বাজেট প্রসঙ্গে শাহজাহান চৌধুরী অভিযোগ করেন, এই বাজেট দেশের ১৮ কোটি সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে কেবল ব্যবসায়ী শ্রেণির স্বার্থ রক্ষায় প্রণয়ন করা হয়েছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অতীতে বাজেট প্রণয়নের আগে বিরোধীদলীয় নেতাদের সঙ্গে পরামর্শের রেওয়াজ ছিল, যা এবার করা হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই বাজেট যারা তৈরি করেছেন, তারা কি ৩৬শে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করেন? অতীতে যারা ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী সরকারের বাজেট বানিয়েছে, এবারও তারাই এই বাজেট তৈরি করেছে।
কৃষি খাতের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, নির্বাচনের আগে স্লোগান ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ। কিন্তু এবারের বাজেটে কৃষকদের চরম অবহেলা করে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। চারদলীয় জোট সরকারের আমলের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডভিত্তিক ৯ জন করে ব্লক সুপারভাইজার নিয়োগ দিয়ে কৃষি খাতে বিপ্লব এনেছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ ও বনায়ন কর্মসূচি সফল হয়েছিল।
গ্যাস ও জ্বালানি খাতের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত ৫৪ বছরে দেশের অভ্যন্তরে নতুন কোনো গ্যাসকূপ সফলভাবে উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে চড়া দামে বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ১৯৬৮ সালে রাশিয়ার উদ্যোগে চট্টগ্রামের কুমিরা, লোহাগাড়ার বড়হাতিয়া ও বাঁশখালীর চাম্বলে গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কৃত হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর আধিপত্যবাদী শক্তির প্রভাবে সেই গ্যাসকূপে সীসা ঢেলে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার একটি চক্রান্ত ছিল। তিনি এসব গ্যাসফিল্ড পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও খননের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান এবং বিগত সরকারের সমুদ্র জয়ের প্রচারণাকে দৃশ্যমান ফলহীন বলে সমালোচনা করেন।








