নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্বামীর বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাত ১১টার দিকে ফতুল্লার ভুঁইগড় এলাকার একটি বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ‘আত্মহত্যা’ বলে মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
মরদেহ উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীর নাম ফারজানা ইসলাম। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর স্বামী নাজমুল একই বিভাগের ২০১৬–১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। নারায়ণগঞ্জে একটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিতে উৎপাদন নির্বাহী পদে চাকরি করেন।
ফারজানার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পাহাড়িয়াকান্দি গ্রামে। আর নাজমুলের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর এলাকায়। চাকরির কারণে নাজমুল নাজমুল ফতুল্লায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন বছর আগে নাজমুলের সঙ্গে ফারজানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর অনেক দিন নাজমুল বেকার ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করতেন। বিয়ের এক বছর পর থেকে ফারজানাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা শুরু হয়। বিভিন্ন সময় নাজমুলকে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা দিলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
তিনি বলেন, গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ফারজানার সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। তখন বোনের কথাবার্তায় অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি। পরে রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ফোন করে ফারজানার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়।
ফারজানার বাবা রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়েকে নির্যাতন করার কারণে নাজমুলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলাম। পরে নাজমুল ও তার পরিবার ভবিষ্যতে নির্যাতন করবে না—এমন আশ্বাস পেলে আমরা মামলা প্রত্যাহার করে নিই। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নাজমুলের পরিবার জানতে পারে। এরপর আমার মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রাখে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।’
ফারজানার সহপাঠী নাজমুন নাহার বিশ্বাস করতে পারছেন না তাঁর সহপাঠী আত্মহত্যা করতে পারেন। নাজমুন নাহার বলেন, ফারজানা আত্মহত্যা করার মতো মেয়ে না। নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের পর তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। তাই কোনো সমস্যা হলে ফারজানা সব বিষয় তাঁদের সঙ্গে বলতে চাইতেন না। তিনি বলেন, আজ রোববার ফারজানার একটি প্রেজেন্টেশন ছিল। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে তাঁদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল।
অভিযুক্ত নাজমুল ইসলাম পুলিশের হেফাজতে থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী প্রথম আলোকে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছি। ফারজানার স্বামীকে আটক করা হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’








