২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তেজনা। ফুটবলের এই মহাযুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি, ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে বুধবারের মহারণের আগে অতীতের এই আবেগ ও ইতিহাসের ভার থেকে বেরিয়ে এসে মাঠের ফুটবলে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন দুই দলের কোচ। ​ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি অতীতের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এটা শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ, এর সঙ্গে যুদ্ধকে মেলানো উচিত নয়। ৪০ বছর আগে যা ঘটেছে তা ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক মানুষ সেই সময় কষ্ট পেয়েছেন, তাই তিনি এখানে দাঁড়িয়ে ফুটবলের চেয়ে বেশি কিছু বলতে চান না। স্কালোনি যোগ করেন, আর্জেন্টাইন হিসেবে স্মৃতি থাকা স্বাভাবিক কিন্তু ইতিহাস ও ফুটবলকে এক করে দেখা ঠিক নয়। সেমিফাইনালে দলের অংশগ্রহণ নিয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এই খেলোয়াড়রাই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের সেরা চার দলের মধ্যে ফিরিয়ে এনেছে এবং ইংল্যান্ডের মতো অসাধারণ দলের বিরুদ্ধে শক্তি দিয়েই লড়াই করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ​ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেলও একইভাবে ইতিহাসকে দূরে রেখে মাঠের লড়াইয়ে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইতিহাস নিয়ে ভাবলে কোনো লাভ নেই, কারণ ফকল্যান্ড যুদ্ধের ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি হয়তো আর্জেন্টিনার সংস্কৃতির অংশ এবং তাদের অনুপ্রেরণা হতে পারে, কিন্তু ইংল্যান্ডের জন্য তা কোনো কাজে আসবে না। টুখেল আরও বলেন, তারা একটি তীব্র ও উত্তেজনাকর ফুটবল ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং আর্জেন্টিনার মতো গোছানো দলের মোকাবিলা করার জন্য দল সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ​ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে ঘিরে ১৮৩৩ সাল থেকে বিরোধের পর ১৯৮২ সালে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিন স্থায়ী যুদ্ধে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। সেই যুদ্ধের রেশ কাটার মাত্র চার বছর পর ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার হাত দিয়ে করা সেই বিতর্কিত গোলটি দুই দেশের বৈরিতাকে ফুটবলের মাঠে স্থায়ী রূপ দেয়। এরপর ১৯৯৮ ও ২০০২ সালের বিশ্বকাপে দুই দলের লড়াই নতুন মাত্রা পেলেও, আজকের আধুনিক ফুটবলাররা সেই ইতিহাসের চেয়ে ম্যাচ জেতাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। বুধবারের এই সেমিফাইনালে জয়ী দল নিশ্চিত করবে বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট, যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে অপেক্ষা করছে স্পেন।