বরিশাল সফরে যাওয়ার পথে মাদারীপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহরে ইটের টুকরাটি কেউ নিক্ষেপ করেননি বলে দাবি করেছেন পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান। এ বিষয়ে তার ভাষ্য, সামনের গাড়ির চাকায় লেগে সড়কে থাকা ইটের টুকরা পেছনের নিরাপত্তাকর্মীর গাড়িতে এসে পড়ে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে কেউ ইট নিক্ষেপ করেননি, রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে সড়ক পথে গাড়িবহর নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বহরটি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সাধুরব্রিজ এলাকায় এলে একটি ইটের টুকরা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের একটি জিপ গাড়িতে এসে পড়ে। পরে এই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওর সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে ইট বা পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশ হয়।

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রী শিশু শিক্ষার্থীদের বললেন ‘আসো আমি ছবি তুলে দিচ্ছি’

পরে প্রশাসনের নজরে এলে বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত ও অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডিসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের গোয়েন্দা সংস্থা। ঘটনাস্থলে গিয়ে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ইটের টুকরা নিক্ষেপের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সড়কে থাকা ইটের টুকরা সামনের গাড়ির চাকায় লেগে পেছনের গাড়ির গ্লাসে এসে পড়ে।

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে কেউ ইট নিক্ষেপ করেননি, রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে

আরও পড়ুন

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী / বন্যায় মানুষ মারা যাচ্ছে অথচ প্রধানমন্ত্রী গেলেন বরিশালে

পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান আরও বলেন, ইটের টুকরা নিক্ষেপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক যুবককে সন্দেহ করা হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দাবি করা ওই ভিডিও পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অভিযুক্ত যুবক ঘটনার পুরোটা সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল দিয়ে সড়কের যানবাহনের ভিডিও ধারণ করতেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আসা ও তারপরও একটানা ভিডিও করেছেন তিনি। তাকেও কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

তিনি বলেন, সড়কে থাকা ইটের টুকরা ছিটকে এসে পড়েছে। এটি কেউ নিক্ষেপ করেনি। এ ঘটনায় রাজৈর থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এরপরও বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এসআর/জেআইএম