নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন দিশা পাটানি। গ্ল্যামারাস ইমেজের বাইরে নিজেকে আরও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে দেখতে চান বলিউড অভিনেত্রী। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’I ছবিতে প্রথমবার পূর্ণাঙ্গ কমেডি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। নতুন এই অভিজ্ঞতা, অক্ষয় কুমারদের কাছ থেকে শেখা, নিজের অভিনয়দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সম্প্রতি মুম্বাইয়ের এক পাঁচ তারকা হোটেলে দিশার সঙ্গে কথা বলেছেন প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধি দেবারতি ভট্টাচার্য
আলাপের শুরুতেই ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ প্রসঙ্গ তুলতেই মুখে চওড়া হাসি ফুটে ওঠে। দিশা পাটানি বলেন, ‘আমার প্রিয় ঘরানাগুলোর একটি কমেডি। ওয়েলকাম ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম ছবির আমি বড় ভক্ত। তাই নতুন কিস্তির প্রস্তাব পেয়ে এক মুহূর্তও ভাবিনি। আসলে এত বড় তারকাবহুল দলের অংশ হওয়ার সুযোগ প্রতিদিন আসে না।’
শুধু নতুন একটি ঘরানায় কাজ করাই নয়, এই ছবির আরেক বড় প্রাপ্তি অভিজ্ঞ শিল্পীদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ। তাঁর ভাষায়, পুরো শুটিংজুড়েই ছিল উৎসবের আবহ। অক্ষয় কুমার প্রায়ই মজার ভিডিও বানাতেন। শুটিংয়ের ফাঁকে সবাই মিলে ভলিবল খেলতেন, আড্ডা দিতেন। হাসতে হাসতে বললেন, ‘আহমেদ স্যার (নির্মাতা আহমেদ খান) শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন, আমরা বাকিরা খেলাধুলা আর আড্ডায় মেতে থাকতাম। সত্যি বলতে, আহমেদ স্যার ছাড়া আর কেউ খুব বেশি পরিশ্রম করেনি।’

অক্ষয়ের প্রসঙ্গে দিশা জানান, ‘অক্ষয় স্যার সব সময় নির্ধারিত সময়ে সেটে আসেন, সময়মতো কাজ শেষ করেন। দড়ি ধরে ঝুলতে, দড়ি বেয়ে উঠতে, এমনকি হেলিকপ্টার থেকে ঝুলে স্টান্ট করার মতো অনেক কিছুই তাঁর কাছ থেকে শিখেছি।’ শুধু অক্ষয়ই নন, জনি লিভার ও আরশাদ ওয়ারসির মতো কমেডি তারকাদের সঙ্গেও কাজ করা ছিল দিশার জন্য বড় শিক্ষা। তাঁর ভাষ্যে, ‘ওনাদের কাজ কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেই কমেডিকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি।’

দিশার মতে, অভিনয়ের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি দর্শক হাসানো। ‘মানুষকে হাসানো যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভিনয়কে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে সবকিছু একেবারে স্বাভাবিক মনে হয়। তবে ইউনিটের সবাই এতটাই সহযোগিতাপরায়ণ ছিলেন যে পুরো কাজটাই উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল,’ বলেন অভিনেত্রী।

নিজেকে কখনোই প্রতিযোগিতার দৌড়ে দেখতে চান না দিশা। তাঁর মতে, ‘অন্যকে টেক্কা দেওয়া নয়, বরং নিজের কাজটাই সবচেয়ে ভালোভাবে করার চেষ্টা করি। দর্শক যদি সেই কাজের সঙ্গে সংযোগ খুঁজে পান, সেটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।’ পর্দায় তাঁকে যতটা আত্মবিশ্বাসী আর গ্ল্যামারাস মনে হয়, বাস্তবের দিশা ঠিক ততটাই শান্ত ও অন্তর্মুখী। নিজের এই স্বভাব নিয়ে কোনো আক্ষেপ তাঁর নেই। বরং এটাকেই শক্তিতে পরিণত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এই স্বভাবের কারণে নিজেকে সবার সামনে তুলে ধরা সব সময় সহজ ছিল না। কিন্তু প্রতিটি চ্যালেঞ্জ আমাকে আরও শক্ত আর ধৈর্যশীল করেছে। আমি চাই, আমার হয়ে আমার কাজই কথা বলুক। শান্ত, সংযত আর আবেগনির্ভর চরিত্রগুলোর সঙ্গে নিজের সবচেয়ে বেশি মিল খুঁজে পাই।’
নিজেকে আরও নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চান এই অভিনেত্রী। মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার, অ্যাকশন ড্রামা কিংবা গভীর আবেগনির্ভর চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছার কথা জানালেন। আর সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই নিয়মিত ব্যায়াম, কার্ডিও ও ওয়েট ট্রেনিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

তেলেগু চলচ্চিত্র দিয়ে দিশার যাত্রা শুরু। তাঁকে নতুন পরিচিতি এনে দেয় ‘এম এস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’। নিজের ‘সুপারহিরো’ জ্যাকি চ্যানের সঙ্গে একটি চীনা ছবিতে কাজ করাকে ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা বলে মনে করেন দিশা। এরপর ‘বাঘি টু’, সালমান খানের সঙ্গে দুটি ছবি, ‘কল্কি ২৮৯৮’, এডি’র মতো বড় প্রযোজনায় অভিনয় তাঁর ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। দিশাকে শিগগিরই ‘আওয়ারাপন ২’–এ ইমরান হাশমি ও শাবানা আজমির সঙ্গে দেখা যাবে।









