আবাসন খাতে শেয়ারভিত্তিক (শেয়ার-বেজড) ব্যবসা পরিচালনার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। একইসঙ্গে নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের সময়সীমা ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পদ্মা হলে রাজউক ও রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সভায় রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে সংস্থাটির ২০ জনের বেশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অংশ নেন। অন্যদিকে, রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজালের নেতৃত্বে ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, রিহ্যাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আউয়াল, তানভিরুল হক প্রবাল, বিটিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এফ আর খান, রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল, সংসদ সদস্য এম ফখরুল ইসলামসহ আবাসন খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তারা সভায় অংশ নেন।
সভায় রাজধানীর পরিকল্পিত নগরায়ণ, আবাসন খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) বাস্তবায়নে বিদ্যমান জটিলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। রিহ্যাবের পক্ষ থেকে ড্যাপ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ বিষয়ে পরবর্তীতে দিনব্যাপী একটি কর্মশালা আয়োজনেরও সিদ্ধান্ত হয়।
রিহ্যাবের পক্ষ থেকে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (FAR) বৃদ্ধি, সেটব্যাক বিধান পুনর্বিবেচনা, উচ্চ ভবন নির্মাণের সুযোগ সম্প্রসারণ, সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (STP) স্থাপনের বাস্তবতা, প্লটের আকার ও অবস্থানভেদে নীতিমালার নমনীয় প্রয়োগ, নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং আবাসন উন্নয়নের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করার দাবি জানানো হয়।
রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, বর্তমান ড্যাপের কিছু বিধান বাস্তব প্রয়োগে আবাসন উন্নয়ন কার্যক্রমকে জটিল করে তুলছে। এতে একদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের ব্যয়ও বাড়ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণের পাশাপাশি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তি, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত ভারসাম্য ও উন্নত অবকাঠামো বিবেচনায় যৌক্তিকভাবে ফ্লোর এরিয়া রেশিও বাড়ানো প্রয়োজন। একইসঙ্গে রাজধানীর সীমিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত উল্লম্ব (ভার্টিক্যাল) নগরায়ণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এছাড়া, বিশেষ করে পাঁচ কাঠা বা ছোট আকারের প্রকল্পে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের বাধ্যবাধকতা পুনর্বিবেচনা এবং সেটব্যাকসহ বিভিন্ন কারিগরি শর্ত আরও বাস্তবসম্মত করার আহ্বান জানায় রিহ্যাব।
সভায় রাজউকের চেয়ারম্যান বলেন, সেবা সহজীকরণ ও হয়রানি কমাতে নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের সময়সীমা ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আবাসন খাতে শেয়ারভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এ নীতিমালা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া, ভবন নির্মাণ শেষে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট প্রদানের দায়িত্ব রিহ্যাবকে অর্পণের বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সভায় জানানো হয়। এর ফলে নিয়ম মেনে নির্মিত ভবনের সনদ প্রদান প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
রিহ্যাব নেতারা বলেন, দেশের আবাসন শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং ২৬৯টির বেশি লিংকেজ শিল্প জড়িত। তাই খাতটির টেকসই উন্নয়নে বাস্তবমুখী, বিনিয়োগবান্ধব ও সময়োপযোগী নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
সভায় উভয়পক্ষই আবাসন খাতের উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিতকরণ এবং জনবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নে ভবিষ্যতেও যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
ইএআর/এএমএ








