রাঙামাটি জেলায় চতুর্থ দিনের মতো বুধবার (৮ জুলাই) দিনব্যাপী টানা বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারী এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যার্তরা আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েছেন।
খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের একাধিক স্থানে বন্যার পানির কারণে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় পাঁচ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছে। ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসে সড়কে কাদামাটির কারণে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কে যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ধসে ঝুঁকি এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদে আশ্রয়ে রাখতে প্রশাসন থেকে জেলায় ২১০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। যেখানে রাঙামাটি সদর, বাঘাইছড়ি, কাউখালী ও কাপ্তাই উপজেলায় ৭৪২ জন অবস্থান করছে। তাদের দুপুরে খাবার দেওয়া হয়েছে।
টানা বর্ষণের ফলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী সড়ক ও পৌর এলাকার উগলছড়ি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের উগলছড়ি, বেপারীপাড়া, নিউলাইল্ল্যা ঘোনা এবং পৌরসভার বটতলী, মাদ্রাসা পাড়া, হাজী পাড়ার কিছু অংশ পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
সাজেকে ঘুরতে গিয়ে আটকা পড়েছেন পাঁচ শতাধিক পর্যটক। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পর্যটকরা সাজেকে যাওয়ার পর বুধবার (৮ জুলাই) সকালে সাজেক থেকে ফেরার কথা থাকলেও খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের একাধিক স্থানে বন্যার পানির কারণে যান চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটকরা সাজেক ত্যাগ করতে পারেনি। এছাড়া কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পুকুরপাড় এলাকায় পাশাপাশি পাঁচটি ঘরের একাংশে পাহাড়ধসে পড়েছে। পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি। একইসঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারী মানুষকে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
কটেজ এন্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানান, প্রশাসন থেকে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিলেও এর আগে সকালে পাঁচ শতাধিক পর্যটক সাজেকে আসে। বুধবার (৮ জুলাই) তারা ফেরত যেতে না পারায় তাদের থেকে আলাদাভাবে সাজেকে থাকার কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না।
বাঘাইছড়িতে পাহাড়ধসে মাটি ও গাছের গুঁড়ির নিচে চাপা পড়ে নিহত লক্ষ্মী বিলাশ চাকমার (৬০) পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান নিহতের পরিবারের সদস্যের হাতে এই আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
এছাড়া সার্বিক বিবেচনায় রাঙামাটিতে মঙ্গলবারের (৭ জুলাই) এইচএসসির ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বন্ধ ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘‘আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা। অসচেতনতার কারণে তারা ঘর ছেড়ে আসতে চাইছে না। আমাদের সকল ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তাদের বুঝিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন।’’
সরকার এই দুর্যোগ মোকাবিলায় যথেষ্ট ত্রাণ বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানান তিনি।








