রাজধানীর গাবতলীতে অবস্থিত ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে করা মামলায় ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মকবুল আহমেদ খান এবং তার ব্যক্তিগত সহকারী নিছার উদ্দীন আকাশকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানার পরিদর্শক মো. নাজমুল হাসান দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন জানায়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত উভয়ের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, চুরি হওয়া নগদ অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার এবং মামলার অন্য পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করতে গ্রেফতার দুজনকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে একদল লোক নিয়ে ড. মকবুল আহমেদ খান ও নিছার উদ্দীন আকাশ ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় প্রবেশ করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়া বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে বিভিন্ন কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালানো হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, এ ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়। পাশাপাশি আলমারিতে রাখা ১৫ লাখ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথি, হিসাব শাখার নথিপত্র এবং রেজিস্ট্রার ও ট্রেজারার দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য প্রচার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
ঘটনার পর মো. রাফিউল ইসলাম বাদী হয়ে দারুস সালাম থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পরে বুধবার ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে মকবুল আহমেদ খান ও গাবতলী এলাকা থেকে নিছার উদ্দীন আকাশকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মকবুল আহমেদ খানের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় আরও দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এমডিএএ/এমকেআর








