বিরোধী দলের ওয়াকআউটকে সংসদীয় অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, “সংবিধান সংশোধন কমিটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না; তারা কেবল সুপারিশ করবে। সেই সুপারিশ সংসদে বিস্তারিত আলোচনা শেষে পাস বা বাতিল হবে। নতুন সংবিধান নয়, বিদ্যমান সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।”

সোমবার (১৩ জুলাই) সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আরো পড়ুন: সংবিধান সংশোধনে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি, বিরোধীদলের ওয়াকআউট

চিফ হুইপ বলেন, “ওয়াকআউট সংসদীয় রীতিনীতির অংশ এবং এটি বিরোধী দলের সাংবিধানিক অধিকার। তারা সেই অধিকারই প্রয়োগ করেছে। অন্যদিকে, সরকার সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করেছে, যার সদস্য সংখ্যা ১৭ করার পরিকল্পনা থাকলেও প্রথম ধাপে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বিএনপির সাতজন সদস্য ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পর সবাই সংসদে এসেছে। তাই সমতার ভিত্তিতে এবং সর্বদলীয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই সংবিধান সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”

নূরুল ইসলাম বলেন, “সংবিধানের যে ধারাই পরিবর্তন করা হোক না কেন, সেটিই সংবিধান সংশোধন। ১৫৩টি ধারার মধ্যে ২০, ৩০ বা ৪০টি ধারা পরিবর্তন করলেও বাকি ধারাগুলো তো বহাল থাকবে। তাই নতুন সংবিধান লেখার প্রশ্নই আসে না। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশই প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করেছে, নতুন করে সংবিধান প্রণয়ন করেনি।”

তিনি বলেন, “একটি রাষ্ট্রে সাধারণত তিনটি পরিস্থিতিতে সংবিধানের প্রশ্ন আসে- রাষ্ট্র স্বাধীন হওয়ার পর নতুন সংবিধান প্রণয়ন, সামরিক শাসনের মাধ্যমে সংবিধান স্থগিত বা বাতিল হওয়া এবং বিদ্যমান সংবিধান সংশোধন। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় তৃতীয় পথই একমাত্র সাংবিধানিক পথ।”

চিফ হুইপ বলেন, “সংবিধান সংশোধন কমিটি কেবল সুপারিশ প্রণয়ন করবে। সেই সুপারিশ সংসদে এসে বিস্তারিত আলোচনা, পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের পরই গৃহীত হবে। তাই কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।”

বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, “বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। সংবিধানকে স্বীকৃতি না দিলে সেই শপথ নেওয়ার সুযোগও থাকত না। তাই সংবিধানকে অস্বীকার করে আবার তার অধীনেই দায়িত্ব পালন এ ধরনের অবস্থান যৌক্তিক নয়।”

নূরুল ইসলাম বলেন, “সংসদে নতুন সদস্য বেশি থাকায় কিছু বিষয়ে তাদের বুঝতে সময় লাগতে পারে। তবে, আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়েই সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।”

রাজপথের আন্দোলনের প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে আন্দোলনের অধিকার সবার আছে। তবে, সংবিধান সংশোধনের মতো বিষয় রাজপথে নয়, সংসদে আলোচনা ও ঐকমত্যের মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত।”

চিফ হুইপ বলেন, “গত ৫৪ বছরে বারবার আন্দোলনের সুফল অন্যরা ভোগ করেছে। এবার যারা দীর্ঘদিন জেল-জুলুম, নির্যাতন, গুম ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তারা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পুনর্গঠন ও গণতন্ত্র সুসংহত করতে চান।”

“গণভোটে জনগণ যে মত দিয়েছেন, সেটিও শেষ পর্যন্ত সংবিধানে সংশোধনীর মাধ্যমেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কারণ সংবিধান সংশোধন ছাড়া সেই রায় বাস্তবায়নের কোনো সাংবিধানিক পথ নেই”, যোগ করেন তিনি।

নূরুল ইসলাম বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিশ্বের প্রায় সব গণতান্ত্রিক দেশই সময়ের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করেছে। বাংলাদেশেও প্রয়োজনীয় সংস্কার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হবে।” তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।