আদিবাসী শব্দের ব্যাখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মত থাকলেও বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় যারা আদিবাসী, তাদের ‘আদিবাসী’ হিসেবেই সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়ে তাদের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপের এটিএম শামসুল হক মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ‘আদিবাসী জনগণ: জীবন, ভূমি অধিকার ও সংস্কৃতির সম্মান’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। এএলআরডি (অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট), বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামসহ জাতীয় পর্যায়ের ১৭টি অধিকারভিত্তিক সংগঠন যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক এবিএম শামসুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের সদস্য আন্না মিনজ এমপি ও অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা এমপি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান।
অনুষ্ঠানে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের পরিষ্কারভাবে বলা উচিত, সংবিধান সংশোধন করে আদিবাসীদের যে সাংবিধানিক অধিকার তা নিশ্চিত করতে হবে। আদিবাসীদের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে একটি পক্ষ আদিবাসীদের দুর্বল রাখার চেষ্টা করেছে এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’ এ সময় তিনি আদিবাসীদের ভূমি সমস্যারও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।
প্যানেল আলোচনায় আরও অংশ নেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, গবেষক ও নৃবিজ্ঞানী ড. ঈশিতা দস্তিদার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভানেত্রী ডা. ফওজিয়া মোসলেম এবং মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। এ ছাড়া সমতল ও পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী নেতা-নেত্রী, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আন্না মিনজ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আদিবাসীদের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজেদের মধ্যেও ঐক্য বজায় রেখে কাজ করা জরুরি।’








