ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট)। বিকেল ৩টায় শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশন স্বল্পমেয়াদি হলেও সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিত্যপণ্যের বাজার এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

অধিবেশন শুরুর আগে দুপুর ২টায় বসবে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক। স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ কমিটির সদস্যরা থাকবেন।

বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচি চূড়ান্ত করা হবে। পাশাপাশি প্রশ্নোত্তর পর্ব, বিভিন্ন বিল এবং বিধি ৭১-এর নোটিশ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় অধিবেশন ১১ কার্যদিবস চলতে পারে।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ গত ১১ আগস্ট এ অধিবেশন আহ্বান করেন। সংবিধান অনুযায়ী, দুটি অধিবেশনের মধ্যে ৬০ দিনের বেশি বিরতি থাকার সুযোগ নেই। গত ১৫ জুলাই শেষ হয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন।

সে হিসাবে আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তৃতীয় অধিবেশন শুরু করার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে জাতিসংঘের সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা রয়েছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হচ্ছে।

যেসব বিষয়ে কথা বলতে পারে বিরোধীদল অধিবেশনে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু বিষয় সামনে আনতে পারে বিরোধীদল। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট, সারের সরবরাহ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বিরোধীদল সূত্রে জানা গেছে, এসব বিষয়ে একাধিক মুলতবি প্রস্তাবের নোটিশ দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। সুযোগ পেলে সরকারের কাছে এসব সমস্যার কারণ ও সমাধানের উদ্যোগ জানতে চাইবেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা।

সীমান্ত হত্যা ও অবৈধ পুশইনের বিষয়টিও অধিবেশনে উঠতে পারে। ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) গত অধিবেশনে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য নোটিশ দিয়েছিলেন। তখন বাজেট অধিবেশনে সময়ের সংকট থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়নি। এবার তা আবারও সংসদে আসতে পারে।

আসছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল তৃতীয় অধিবেশনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন ও পাসের প্রস্তুতি রয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন ইতোমধ্যে সংসদে উত্থাপনের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইনও সংসদে আসতে পারে। র‌্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন নিয়েও কাজ চলছে। এসব বিলের কয়েকটি চলতি অধিবেশনেই পাস হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গঠন হবে বাকি সংসদীয় কমিটি এ অধিবেশনে সংসদীয় কমিটিগুলোর গঠন শেষ করাও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, প্রথম তিনটি অধিবেশনের মধ্যে সব কমিটি গঠনের কথা থাকলেও প্রথম দুই অধিবেশনে ১৫টি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং ১১টি বিষয়ভিত্তিক কমিটি। এরই মধ্যে নয়টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ও ছয়টি বিষয়ভিত্তিক কমিটি গঠন হয়েছে। বাকি ৩৫টি কমিটি এবার গঠনের কথা রয়েছে।

কমিটির সভাপতি পদে বিরোধীদলের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও আলোচনা রয়েছে। জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদে আসনসংখ্যার অনুপাতে বিরোধীদলের ৫০টি কমিটির মধ্যে ১১টির সভাপতি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত গঠিত ১৫টি কমিটির মধ্যে মাত্র একটির সভাপতি পদ বিরোধীদল পেয়েছে। বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে সরকারি হিসাবসম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। অন্য কমিটিগুলোর সভাপতি পদে বিরোধীদলের সদস্যদের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদ অধিবেশনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত হলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হবে। বিরোধীদল গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় সংসদে তুললে সেটি নিয়ে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে সংসদীয় কমিটিগুলোর গঠনও সম্পন্ন করা হবে।