সরকারি চালে নিজের চাহিদামতো তালিকা দিতে না দেওয়ায় মুলাদীতে ইউনিয়ন পরিষদের ভেতর প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর ও গুলি করে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে মুলাদী সদর ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ওইদিন নদীভাঙনকবলিত অসহায় মানুষের জন্য সরকারি চাল বিতরণের তালিকা প্রস্তুত করছিলেন ৬ নম্বর মুলাদী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. জাকির হোসেন সিকদার। এ সময় তার কার্যালয়ে ঢুকে মারধর, অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয় উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব বেল্লাল হোসেন সরদার ও তার লোকজন। এ ঘটনায় জাকির হোসেন থানায় জিডি করেছেন এবং ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার অসহায় মানুষদের ৩ টন চাল বরাদ্দের তালিকা প্রস্তুত করার সময় বেল্লাল হোসেন সরদার ও সুজন চৌকিদারসহ ৫-৬ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী হঠাৎ ওই কর্মকর্তার রুমে প্রবেশ করে। কার অনুমতিতে এ তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে জানতে চেয়ে গালাগাল শুরু করে। একপর্যায়ে তারা ওই কর্মকর্তাকে চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুসি মেরে লাঞ্ছিত করে। সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় তারা ওই কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করার হুমকিও দেয়। ভুক্তভোগী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সিকদার অভিযোগে উল্লেখ করেন, বেল্লাল সরদার এর আগেও তার অফিসে এসে আসবাবপত্র তছনছ করেছিল। এছাড়া বিগত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় ভিজিএফ চাল বিতরণে বাধা দিয়ে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ চাল দাবি করেছিল। এমনকি দরিদ্র মহিলাদের দুই বছর মেয়াদি ভিডব্লিউবি চালের কার্ড বিতরণের সময়ও তারা জোরপূর্বক কার্ড ছিনিয়ে নিয়েছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুলাদী সদর ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, ওই চালের ২০% হিসাবে ৩০ জনের তালিকা দিতে চেয়েছিল ওই ছাত্রদল নেতা। কিন্তু পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে ২৫ জনের নাম দিতে বলা হয়। পরে চেয়ারম্যন পরিষদ থেকে বের হওয়ার পরপর ওই ছাত্রদল নেতা প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করেন। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা বেল্লাল হোসেন সরদার বলেন, গত মঙ্গলবার আমি পরিষদে যাইনি। মুলাদী সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও জিডি করা হয়েছে। ইউএনও মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, জিডির কপি আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।