বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর ও আশাশুনিতে বেড়িবাঁধ ভাঙনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ বাঁধ, নদীর তীব্র স্রোত আর জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকির মধ্যে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন দুই উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ।স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীন অনেক বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। চলতি বর্ষার শুরুতেই দুই উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ৪০টি স্থানে ভাঙন ও বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।আশাশুনি উপজেলার মরিচ্চাপ নদীর ওপর নির্মিত তেঁতুলিয়া সেতু সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় সেতুটি এখন হুমকির মুখে। এ ছাড়া প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাউনিয়া, হরিষখালী, চাকলা এবং আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবাসিয়া ও বিছট গ্রামেও বাঁধের বেহাল দশা ফুটে উঠেছে।কুড়িকাহুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, ‘কপোতাক্ষের ভাঙনে আগেই ভিটেমাটি হারিয়েছি। এখন যে নতুন জায়গায় আছি, সেখানেও নদীর ঢেউ আছড়ে পড়ছে। এভাবে চললে আবার পথে বসতে হবে।’অন্যদিকে শ্যামনগরের পদ্মপুকুর, গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, আটুলিয়া ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধ ধসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।স্থানীয়রা বলছেন, জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেললেও তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দিচ্ছে না। নদীতে পানি বাড়লে যেকোনো সময় বিস্তীর্ণ এলাকা লোনাপানিতে তলিয়ে যেতে পারে।সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাধব দত্ত বলেন, ‘প্রতিবছর অস্থায়ী সংস্কারের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে। উপকূল রক্ষায় এখন টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিকল্প নেই।’পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা পাউবোর দুই বিভাগের অধীনে প্রায় ২০ কিলোমিটার বাঁধের ৪০টি স্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাউবো বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, তাঁর অধীনে থাকা ৫ কিলোমিটার বাঁধের ১০-১৫টি স্থানে সংস্কার কাজ চলছে।পাউবো বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, প্রতাপনগর, আনুলিয়া ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ১৫ কিলোমিটার বাঁধ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ৫ কিলোমিটারে কাজ চলছে। বাকি অংশের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে।
রাজনীতি
সাতক্ষীরায় বাঁধে ৪০ ভাঙন, লোনাজলের আতঙ্কে উপকূল

শেয়ার করুন







