কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে কেতাব উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে তাঁর স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ চার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত জেলা জজ মো. জয়নাল আবেদীন এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তারিকুর রহমান তারিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন নিহত কেতাব উদ্দিনের স্ত্রী নুর নাহার, শ্বশুর নুর মোহাম্মদ, শাশুড়ি ছকিনা বেগম এবং আব্দুল গফুর নামের আরেক ব্যক্তি। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত সাজা পরোয়ানা মূলে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
হত্যাকাণ্ডের শিকার কেতাব উদ্দিন জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার চর গোরকমন্ডল গ্রামের আলী মুদ্দিনের ছেলে। ২০০৬ সালে শ্বশুরবাড়ি দাওয়াত খেতে গিয়ে খুন হন তিনি।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, কেতাব উদ্দিনের স্ত্রী নুর নাহারের সঙ্গে আব্দুল গফুরের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কলহ ছিল। ২০০৬ সালের ১৮ এপ্রিল রাতে নুর নাহার তাঁর স্বামীকে দাওয়াতের কথা বলে একই গ্রামে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান। আব্দুল গফুর ও অন্য আসামিরা যোগসাজশ করে কেতাব উদ্দিনকে পিটিয়ে এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেন। কেতাবের লাশ তাঁদের বাড়ির কাছে একটি জমিতে ফেলে রাখা হয়। এই ঘটনায় নিহত কেতাবের বাবা বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ফুলবাড়ী থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ ২০ বছর আইনি লড়াই শেষে আজ আদালত নিহত ব্যক্তির স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। অন্য আসামিদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তারিকুর রহমান তারিক।








