ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা স্বামীর মোবাইল নম্বরে নিয়ে শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন আয়েশা আক্তার নামের এক শিক্ষক। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

অভিযুক্ত আয়েশা আক্তার রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক ছিলেন। বর্তমানে তিনি উপজেলার মিনারকুটে এন আই ভূঞা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর উপজেলা শিক্ষা অফিস তদন্ত শুরু করে। তদন্তে শিক্ষক আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ব্যক্তিগত শুনানির জন্য তলব করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন

উপবৃত্তির টাকা যেত শিক্ষকের স্বামীর মোবাইলে, জানতো না শিক্ষার্থী

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সাল থেকে উপবৃত্তির জন্য মনোনীত হয় রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই সময়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী পরশ মিয়া। তবে উপবৃত্তির জন্য পরশের অভিভাবকের মোবাইল নম্বর না দিয়ে ওই সময়ের শ্রেণি শিক্ষক আয়েশা আক্তার তার স্বামী ইব্রাহিম খলিলের নম্বর দিয়ে দেন। এরপর থেকে ইব্রাহিম খলিলের ফোনে ছয় মাস পরপর উপবৃত্তির টাকা জমা হতে থাকে। আড়াই বছরে তার নম্বরে সাড়ে চার হাজার টাকা জমা হয়।

গত ৯ জুলাই বিষয়টি জানা যায়। পরশ (বর্তমানে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র) অনিয়মিত আসার বিষয়ে কথা বলতে ক্লাস চলাকালীন তার মাকে ডেকে আনেন শ্রেণি শিক্ষক স্বীকৃতি রায়। এসময় পরশের মা খুকি বেগমকে বলা হয়, নিয়মিত না এলে উপবৃত্তি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ কথা শুনে খুকি বেগম জানান, তার ছেলে এখনো উপবৃত্তি পান না। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানানো হলে তিনি নামের পাশে থাকা ফোন নম্বরে কথা বলার পরামর্শ দেন।

কাগজে থাকা নম্বর দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, পরশের কোনো স্বজনের নম্বরে টাকা যাচ্ছে না। যে নম্বরটিতে যাচ্ছে সেটি বর্তমানে অন্য বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে থাকা আয়েশা আক্তারের স্বামী চট্টগ্রামে কর্মরত ইব্রাহিম খলিলের নম্বরে। এরপর শ্রেণি শিক্ষক ওই নম্বরে কথা বলেন।

পরে প্রধান শিক্ষক ওই নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও ইব্রাহিম খলিল ধরেননি। পরে অন্য এক শিক্ষক ফোন করলে তিনি রিসিভ করেন ও নিজের নামের সত্যতা স্বীকার করেন। পরশের মাও ওই নম্বরে কল করে বিষয়টি জানান। পরে একই দিন বিকেলে দুই হাজার ৭০০ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। জানানো হয় আড়াই বছরে ওই টাকাই পাওয়া গেছে।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর/জেআইএম