ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ করলে বিএনপি এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ারও ভিন্ন পরিণতি হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

রোববার (২৭ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরের রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটেছে। সরকার যদি তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে এর political (রাজনৈতিক) পরিণতি ভোগ করতে হবে।

তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং শেখ হাসিনা সরকারের সময় ভোটাধিকার হরণের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে বিএনপি ও তারেক জিয়ারও শেখ হাসিনার মতো পরিণতি হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ দিয়ে জনগণের সম্মান ও মর্যাদা কেনা যাবে না। শেখ হাসিনা যেমন উন্নয়ন প্রকল্প দেখিয়ে মানুষের অধিকারকে উপেক্ষা করেছিলেন, তেমনি বর্তমান সরকারও যদি গণভোটের রায় অস্বীকার করে, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

বিএনপির উদ্দেশে মামুনুল হক বলেন, ৩২টি রাজনৈতিক দলকে বাইরে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে সমঝোতা করে ক্ষমতাসীনরা নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এই ‘চোরাই পথ’ অনুসরণ করে জনগণের সংস্কার-আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করলে সেটি বিএনপির জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নই তাদের প্রধান দাবি। একই সঙ্গে দেশে চলমান জনদুর্ভোগ দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও ফলাফল ‘ম্যানিপুলেশনের’ মাধ্যমে বিরোধী দলের বহু নেতাকে পরাজিত করা হয়েছে। তবে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মানুষের শান্তির স্বার্থে তারা নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভোট কারচুপিকে তারা কখনোই বৈধতা দেন না।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, মালয়েশিয়া ও চীন সফরে কী ধরনের চুক্তি হয়েছে, তা সংসদে প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনগণের দাবি আদায়ে আবারও রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন। এতে বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামের ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, খেলাফত মজলিসের আমির আবদুল বাছিত আজাদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ এবং ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান প্রমুখ।

হোসাইন সুলভ/কেএইচকে/এমএস