ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। টানা ৩৪ ম্যাচে অপরাজিত থাকার সঙ্গে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে একটিও গোল হজম না করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্পেন। দুর্ভেদ্য রক্ষণ আর ছন্দে থাকা আক্রমণভাগের ওপর ভর করে এবার তাদের লক্ষ্য অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা। আজ রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই দল।
বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট স্পেন। কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করে টুর্নামেন্ট শুরু করায় তাদের নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। গ্রুপ ‘এইচ’ থেকে সাত পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ দল হিসাবে নকআউটে উঠেছে তারা। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি রক্ষণভাগ। তিন ম্যাচে একটিও গোল হজম করেনি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। শেষ ম্যাচে অ্যালেক্স বায়েনার একমাত্র গোলে উরুগুয়েকে হারিয়ে দারুণ ছন্দ নিয়ে নকআউটে পা রেখেছে তারা। দুদলের পরিসংখ্যানও স্পেনের পক্ষে কথা বলছে। বিশ্বকাপে টানা পাঁচ ম্যাচে কোনো প্রতিপক্ষই তাদের বিপক্ষে ছয়টির বেশি শট নিতে পারেনি। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত প্রথমার্ধে স্পেনের গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি কোনো দল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাদের অপরাজিত থাকার ধারা পৌঁছেছে ৩৪ ম্যাচে। আর একটি ম্যাচ এড়াতে পারলে ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে গড়া নিজেদের ৩৫ ম্যাচের রেকর্ড স্পর্শ করবে স্পেন।
এদিকে নাটকীয়ভাবে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে অস্ট্রিয়া। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র করে গোল ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত তারা। ম্যাচের ৯৬ মিনিটে সাসা কালাইজডজিচের হেডের গোল অস্ট্রিয়াকে নকআউটে তুলেছে। ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে নামা অস্ট্রিয়ার সামনে এবার কঠিন পরীক্ষা। স্পেনের বিপক্ষে তাদের সবশেষ জয় ১৯৯০ সালে প্রীতি ম্যাচে। আর দুদলের সবশেষ দেখায় ২০০৯ সালে ৫-১ গোলের বড় জয় পেয়েছিল স্পেন। চোটের কারণে স্পেন শিবিরে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। ইয়েরেমি পিনো, নিকো উইলিয়ামস ও ভিক্টর মুনোজের খেলা অনিশ্চিত। উরুগুয়ের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করা অ্যালেক্স বায়েনা একাদশে জায়গা ধরে রাখতে পারেন। মাঝমাঠে মিকেল মেরিনো, ফাবিয়ান ব্লইজ, দানি ওলমো ও গাভির মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে ফুয়েন্তেকে।
অস্ট্রিয়ার মার্কো আরনাউটোভিচ ও ডেভিড আলাবা সামান্য হাঁটুর অস্বস্তিতে ভুগলেও তাদের খেলার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে পূর্ণশক্তির দল নিয়েই স্পেনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত রাংনিকের শিষ্যরা। দুর্দান্ত ফর্ম, শক্তিশালী রক্ষণ এবং সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সব কিছুই স্পেনকে এগিয়ে রাখছে। তবে নকআউট পর্বে ছোট একটি ভুলও স্বপ্নভঙ্গের কারণ হতে পারে।








