নতুন অর্থবছরে বিনিয়োগকারীদের কাছে নতুন আশা জাগিয়ে তুলেছে শেয়ারবাজার। কারণ, বিগত অর্থবছরটি শেষ হয়েছে সূচক ও লেনদেনের ভালো অবস্থানে। সবশেষ গত ৩০ জুন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৭৬৩ পয়েন্টের অবস্থানে। গত প্রায় ২১ মাসের মধ্যে এটি ডিএসইএক্সের সর্বোচ্চ অবস্থান। এর আগে সবশেষ ডিএসইএক্স সূচকটি ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ৭৭৮ পয়েন্টের সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল।
সূচকের পাশাপাশি নতুন অর্থবছরটি শুরু হতে যাচ্ছে শেয়ারবাজারের লেনদেনের ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান থেকে। ৩০ জুন ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা। গত প্রায় ২৮ মাসের ব্যবধানে ঢাকার বাজারে এটিই ছিল সর্বোচ্চ লেনদেন। এর আগে সবশেষ ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারিতে ডিএসইতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। গত বছরের ২ জুলাই সদ্যবিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দিনে ডিএসইএক্স সূচকটি ছিল ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্টের অবস্থানে। আর লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৮০ কোটি টাকা। সেই বিবেচনায় গত অর্থবছরের চেয়ে নতুন অর্থবছরটি শুরু হতে যাচ্ছে সোয়া তিন গুণ বেশি লেনদেন নিয়ে। আর সূচকের ৮৯৮ পয়েন্টের বেশি অবস্থান থেকে।
গত কয়েক বছরের মধ্যে সূচক ও লেনদেনের সর্বোচ্চ অবস্থান নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার নতুন অর্থবছরের লেনদেন শুরু হচ্ছে। বাজার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শেয়ারবাজার আবারও নতুন করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। ৪ জুন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নিয়েছে। বিএনপি সরকার বিএসইসিতে নতুন যে নেতৃত্ব নির্বাচিত করেছে, সেটিকে স্বাগত জানিয়েছেন শেয়ারবাজার অংশীজন থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারীরাও। যার ইতিবাচক প্রভাবও কিছুদিন ধরে বাজারে দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া শেয়ারবাজারকে গতিশীল করতে সরকারের দিক থেকে নানা পরিকল্পনা ও উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। নতুন অর্থবছরের বাজেটে একগুচ্ছ প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছে শেয়ারবাজারের জন্য। তাতে সবকিছু মিলিয়ে শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদের নতুন করে আবার আশাবাদী করে তুলেছে।
জানতে চাইলে ডিএসইর ব্রোকারেজ হাউসগুলোর মালিকদের সংগঠন ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নতুন অর্থবছরে শেয়ারবাজার ঘিরে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। আমাদের এই আশাবাদ তৈরি করেছে বাজার নিয়ে সরকারের কাঠামোগত পরিকল্পনা এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গৃহীত নানা পদক্ষেপ। সরকার ব্যাংকনির্ভরতা কমাতে শেয়ারবাজারকে অর্থনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসার বিষয়ে আন্তরিক। এ ছাড়া বাজারের স্বার্থে আমরা যেসব দাবি বা পরামর্শ তুলে ধরেছি, সরকারও সেসব বিষয় আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করছে। তাই সব মিলিয়ে বাজার নিয়ে আমাদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।’
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আশাবাদের পাশাপাশি বাজার নিয়ে কিছু দুশ্চিন্তাও আছে। বড় দুশ্চিন্তা ভালো শেয়ারের ঘাটতি ও খারাপ শেয়ারের আধিক্য। তাই আমরা মনে করি সরকার দ্রুততার সঙ্গে বাজারে ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে এই দুশ্চিন্তাও অনেকাংশে কেটে যাবে।’
এই আশাবাদের বিপরীতে দুশ্চিন্তাও আছে শেয়ারবাজার ঘিরে। আর সেই দুশ্চিন্তার বড় কারণ বাজারে ভালো শেয়ারের অভাব। তাই বাজারের ঊর্ধ্বগতির সুযোগে বাজে কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজিকারকদের কারসাজির প্রবণতাও বেড়ে যায়। এ কারণে বাজার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাজারে গতি ফেরার সঙ্গে সঙ্গে ভালো শেয়ারের সরবরাহও বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে কারসাজি রোধে কঠোর হতে হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে। ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানো হলে সেসব ভালো কোম্পানির সঙ্গে বাজারে নতুন করে বিনিয়োগকারীও আসবে।
বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, বাজারে ভালো শেয়ারের সরবরাহ বৃদ্ধি ও বন্ধ কোম্পানি তালিকাচ্যুত করার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সরকারি কিছু লাভজনক কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্তির বিষয় নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া বন্ধ কোম্পানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ ও এসব কোম্পানির তালিকাচ্যুতির বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে কর্মপন্থা নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ কিছু কোম্পানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে তাৎক্ষণিক লেনদেন বন্ধের সিদ্ধান্তও নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে বিএসইসি–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।








