শেয়ারবাজারে শেয়ারের তদারকি বা সার্ভেল্যান্সের কারণে যাতে বাজারে ভীতি না ছড়ায়, সে জন্য সুনির্দিষ্ট তথ্যভিত্তিক সার্ভেল্যান্সের নির্দেশ দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষকে অহেতুক সার্ভেল্যান্সের বদলে তথ্যভিত্তিক সার্ভেল্যান্সের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার সকালে ডিএসইর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকসংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএসইসি ও ডিএসই সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কোম্পানির শেয়ারের বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগে বাজারে আতঙ্ক ও ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। এতে অনেক বিনিয়োগকারী আতঙ্কিত হয়ে বিনিয়োগ তুলে নেন; যার বড় ধরনের প্রভাব পড়ে বাজারের লেনদেন ও শেয়ারের দামে। কারণ, তদন্তের অংশ হিসেবে ডিএসইর পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে নানা ধরনের তথ্য চেয়ে দফায় দফায় চিঠি দেওয়া হয়। তথ্য চাওয়ার বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মাঝারি ও বড় বিনিয়োগকারীদের অনেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন। এ অবস্থায় তদন্ত বা তদারকির নামে যাতে বাজারে আতঙ্ক না ছড়ায়, সেটি নিশ্চিত করতে চায় বিএসইসি। এরই অংশ হিসেবে ডিএসই শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে বিএসইসি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএসইসির দুই কমিশনার, একাধিক নির্বাহী পরিচালক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, পরিচালক মিনহাজ মান্নান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ারসহ সংস্থাটির শীর্ষ ব্যক্তিরা।

সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকের শেয়ার, তবু বিনিয়োগে আগ্রহ কম

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বিএসইসির পক্ষ থেকে বৈঠকে বলা হয়, বাজারে কারসাজি রোধে তদন্ত ও তদারকি অব্যাহত রাখা হবে। কিন্তু তদন্ত ও তদারকির নামে অযাচিত ভীতি ও আতঙ্ক ছড়ানো যাবে না। এ কারণে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তভিত্তিক তদন্ত ও তদারকি নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে বিএসইসি। বড় ধরনের অনিয়ম ও কারসাজির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কারসাজিকারকের তথ্য সংগ্রহে কৌশলী ও ডেটানির্ভর হওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়। তদন্তের নামে অহেতুক কোনো বিনিয়োগকারী যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করতে ডিএসইকে পরামর্শ দিয়েছে বিএসইসি। পাশাপাশি তদন্তের ক্ষেত্রে বাজারের বাস্তবতা ও বিনিয়োগকারীর সেন্টিমেন্টকে বিবেচনায় নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে চিঠি দিয়ে তথ্য সংগ্রহের বদলে সার্ভেল্যান্স সিস্টেম থেকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কারসাজির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কথা বলা হয়। এরপর সেই তথ্য পর্যালোচনার পর কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইন ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সে ক্ষেত্রে ওই বিনিয়োগকারী সম্পর্কে অধিকতর তথ্য সংগ্রহ করার বিষয়ে মতামত দিয়েছে বিএসইসি।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্রে জানায়, বর্তমান সার্ভেল্যান্স ব্যবস্থা নিয়ে বিএসইসির উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করেন ডিএসইর শীর্ষ নেতৃত্বও। তাই এখন থেকে বাজারে তদারকি ও তদন্তের ক্ষেত্রে অহেতুক যাতে ভীতি বা আতঙ্ক না ছড়ায়, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা জানান ডিএসইর নেতারা।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত বা তদারকির নামে ঢালাও চিঠি দিয়ে বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভীতি ছড়ানো হয়েছে। এতে তদন্তের উদ্দেশ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তাই বিএসইসির পক্ষ থেকে উদ্দেশ্যহীন তদন্তের বদলে সুনির্দিষ্ট তথ্যনির্ভর তদন্তের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিএসইসি বলেছে, তদন্তের নামে বাজারে ভীতি ছড়ানো যাবে না। তদন্তের উদ্দেশ্য যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। আমরাও বিএসইসির এই উদ্বেগ ও পরামর্শের সঙ্গে একমত পোষণ করেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে ডিএসই।’

এক বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারের চেহারা বদলাবে: অর্থমন্ত্রী