নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৩০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে আটক ১২ জনসহ মামলায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। 

আজ শনিবার (২৭ জুন) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহআলম বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। একই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৮০-৯০ জনকে।

গ্রেপ্তাররা হলেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মশুর আলীর ছেলে মো. সোহাগ (১৯), অন্য প্রসাদের ছেলে আনিস সরকার (১৮), তাপসের ছেলে তন্ময় (১৮), মাসুদ মিয়ার ছেলে ওয়ালিদ (১৮), মিয়া চানের ছেলে মাহফুজ আলম (১৮), তাইজুল ইসলামের ছেলে ইমতিয়াজ আহমেদ ইমন (১৮)।

ঢাকাস্থ ডেমরা ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. সাব্বির হোসেন (২০), আজিজ মিয়ার ছেলে আবিদ (১৮, মো. আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে মো. আবির হোসেন (২৭), সুজন মিয়ার ছেলে তাওহিদ ইসলাম (১৮), মাসুদ আলমের ছেলে মো. রিয়াদ (১৮) এবং কামাল হোসেনের ছেলে মো. সোহেল (১৯)।

এই মামলায় অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজল কুন্ড (৩৫), যাত্রাবাড়ীস্থ দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক তাসরিফ আল নোমান (২৮), নারায়ণগঞ্জ মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি শিব্বির (৪৬), সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক (৫০), সিদ্ধিরগঞ্জ সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ভুঁইয়া রাজু (৫০), সিদ্ধিরগঞ্জ থানা তাঁতি লীগের সভাপতি লিটন ওরফে গুজা লিটন (৩৫) প্রমুখ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২৬ জুন বিকেলে এজাহারনামীয় ১-১৩ জন আসামির নেতৃত্বে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, বর্তমান সরকারকে উৎখাত করাসহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী-সমর্থকেরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ অংশের মৌচাক ইউটার্নের চট্টগ্রামমুখী লেনে একটি ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। নৈরাজ্যকারীদের পরিকল্পনা-মিছিলের খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি দল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১২ জনকে আটক করতে সক্ষম হলেও বাকিরা পালিয়ে যায়।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক। তিনি বলেন, মিছিলের প্রস্তুতিকালে যাঁদের আটক করা হয়েছিল, তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উক্ত মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।