যশোরের মনিরামপুরে পলাশ বিশ্বাস (৪৭) নামে এক স্কুলশিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রাম থেকে নেহালপুর ক্যাম্পের পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে। এর আগে আজ সকাল ৯টার দিকে বাড়ির অদূরে পুকুরপাড়ে মেহগনি গাছের সঙ্গে পলাশ বিশ্বাসকে ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্বজনেরা।
পলাশ বিশ্বাসের আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ জানাতে পারেনি পুলিশ। স্বজনদের দাবি, দুই বছর ধরে মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন পলাশ। এ কারণে তিনি দুই মাস আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখিয়েছেন।
পলাশ বিশ্বাস ভবানীপুর গ্রামের মৃত মুকুল বিশ্বাসের ছেলে। তিনি অভয়নগর উপজেলার আল হেলাল ইসলাম একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। ২০০২ সালে পলাশ বিশ্বাস ওই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। দুই বছর আগে তিনি এমপিওভুক্ত হন। তাঁর স্ত্রী অনুপমা বিশ্বাস খুলনার ফুলতলা উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
পলাশের বন্ধু স্থানীয় ইউপি সদস্য উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, ‘পলাশের বাড়িতে পাকা ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। আজ সকালে সে গোসলখানার জন্য পাইপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনতে বাড়ি থেকে বের হন। দেরি হওয়ায় বাড়ির লোকজন তাঁর খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশে পুকুর ধারে গলায় রশি জড়ানো অবস্থায় তাঁর ঝুলন্ত লাশ দেখা যায়।’
নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) অলোক বিশ্বাস বলেন, ‘শিক্ষিকা স্ত্রী, কলেজ পড়ুয়া এক ছেলে ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে সুখী পরিবার শিক্ষক পলাশের। সম্প্রতি তিনি ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন। সেখান থেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন পলাশ বিশ্বাস। সুখী পরিবার হলেও ঠিক কি কারণে পলাশ ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন তা জানা যায়নি।’
এসআই অলোক বিশ্বাস আরও বলেন, ‘পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়া সৎকারের জন্য পলাশ বিশ্বাসের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’








