টানা ভারী বর্ষণে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে কটিয়াদী সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন ও খেলার মাঠ হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক পাঠদান বন্ধ রয়েছে। মাঠের পানি উপচে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ায় চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের বিশাল খেলার মাঠটি এখন জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ময়লা পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপজেলার আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে কার্যকর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা বা আধুনিক ড্রেনেজ না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে। এতে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া কটিয়াদীর বিভিন্ন নিম্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ।ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মুন্তাকিম জামান শাহেদের মা মাহমুদা খাতুন বলেন, ‘পরীক্ষার জন্য সকালে সন্তানকে নিয়ে বের হয়েছিলাম। কিন্তু রাস্তা ও বিদ্যালয়জুড়ে পানি থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। প্রতিটি মোড়ে যানজট, জলাবদ্ধতা ও ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে শিশুদের নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে।’বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউল আলম (মাহফুজ) বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক কক্ষ ও বিদ্যালয় মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছি। বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রত সংস্কার কাজ এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।’\