মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ বালু ও সরঞ্জাম জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে দুই ক্ষেত্রেই প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক বা শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রীমঙ্গলের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রুপশপুর আবাসিক এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সেখান থেকে প্রায় ২৫০ ঘনফুট অবৈধ বালু জব্দ করা হয়। তবে কোনো আসামিকে না পাওয়ায় বালুগুলো স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।এর আগে একই দিন সকালে মৌলভীবাজার সড়কের ৫ নম্বর সেতুর উত্তর পাশে ভাড়াউড়া এলাকায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে প্রায় ৮০০ ঘনফুট বালু এবং বেলচা, টুকরি ও স্ট্যান্ডসহ বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ছড়ার অপর পাড় দিয়ে পালিয়ে যান। জব্দকৃত সরঞ্জাম স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে।টানা অভিযানের পরও মূল হোতারা কেন আইনের আওতায় আসছেন না - তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, অভিযানের তথ্য আগেভাগেই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ইতিপূর্বে শ্রীমঙ্গলের ভূনবীর ও সিন্দুরখান এলাকায় বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় শিক্ষার্থীসহ তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় বড় ধরনের আন্দোলন হয়েছিল। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও প্রভাবশালী চক্রের মদদে অবৈধ বালু উত্তোলন শুরু হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে স্থানীয়দের দাবি, কেবল বালু বা সরঞ্জাম জব্দ নয়, বরং বালু উত্তোলনের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও অর্থদাতাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিলেই এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
রাজনীতি
শ্রীমঙ্গলে আবারও বালু জব্দ, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

শেয়ার করুন







