‘আমি বাঁচতে চাই, আমার সন্তানদের জন্য বাঁচতে চাই’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর এলাকার মোবারক পাড়ার বাসিন্দা মোসা. রোকসানা খাতুন (৪৫)। দুই সন্তানের মা রোকসানা বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। দুটি কিডনি প্রায় সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে যাওয়ায় তার জীবন এখন নির্ভর করছে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের ওপর।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের শুরু থেকেই রোকসানার শরীরে নানা উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। প্রায় দেড় বছর অসুস্থ থাকার পর চলতি বছরের ২৭ মার্চ তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে কিডনির জটিল সমস্যা ধরা পড়ে।

আরও পড়ুন

পা দিয়ে লিখে মাস্টার্স পাস, আয়েশার জীবনের একমাত্র আশা সরকারি চাকরি

পরবর্তীতে ৩১ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে কিডনি বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. এমডি তৌহিদ বিল্লাল তপনের তত্ত্বাবধানে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দ্রুত ডায়ালাইসিস শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এরপরই রোকসানা ও তার পরিবার জানতে পারে, তার দুটি কিডনিই প্রায় সম্পূর্ণরূপে অকেজো হয়ে গেছে। এমন দুঃসংবাদে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার।

আরও পড়ুন

ঋণের টাকায় কেনা অটোরিকশা চুরি, দিশাহারা হিরণ

স্ত্রীকে সুস্থ করে তুলতে স্বামী মো. আমিন নিজের সাধ্যমতো চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে চিকিৎসার পেছনে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয়ে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।

বর্তমানে রোকসানাকে সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে। প্রতিবার ডায়ালাইসিস, ওষুধ ও যাতায়াত খরচ মিলিয়ে মাসে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, যা একটি দিনমজুর পরিবারের পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী বিষয় হলো, স্ত্রীকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিতে প্রস্তুত রয়েছেন স্বামী আমিন। তবে কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে, যা তাদের আর্থিক সামর্থ্যের বাইরে।

একসময় কার্পাসডাঙ্গার একটি মুরগির খামারে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন আমিন। কিন্তু বর্তমানে অসুস্থ স্ত্রীর সার্বক্ষণিক সেবাযত্নের জন্য সেই কাজও ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

আরও পড়ুন

নদীই জীবন, বৈঠাই ভরসা তাসলিমার

কান্নাভেজা চোখে আমিন বলেন, ‘আমার কিডনি দিয়ে স্ত্রীকে বাঁচাতে চাই। কিন্তু অপারেশনের টাকা জোগাড় করতে পারছি না। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়ত আমার দুই সন্তানের মা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।’

চিকিৎসকদের ভাষ্য, দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করা গেলে রোকসানার সুস্থ জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, ততোই বাড়ছে তার শারীরিক ঝুঁকি।

চুয়াডাঙ্গা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাকির হোসেন বলেন, রোকসানা খাতুনের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র ও আবেদন জমা দেওয়া হলে সরকারি বিধি অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এছাড়া অসহায় ও দুস্থ রোগীদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং চিকিৎসা সহায়তা তহবিল থেকে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। আমরা বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি এবং পরিবারকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে প্রস্তুত আছি।

হুসাইন মালিক/এফএ/জেআইএম