উড়িষ্যা ও দক্ষিণ ঝাড়খন্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমী স্থল নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। ফলে পটুয়াখালীতে গত চারদিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপকূলীয় এই জেলার কলাপাড়ায় ৫০.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে খেপুপাড়া আবহাওয়া অফিস। 

এদিকে, টানা বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। জেলার বিভিন্ন সড়কসহ নিচু স্থানে পানি জমেছে। উত্তাল রয়েছে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর। সৈকতে আছড়ে পড়ছে ছোট বড় ঢেউ। 

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে আজও দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই পটুয়াখালীর পায়রা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাছধরা নৌকা ও ট্রলার সমূহকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

পটুয়াখালীর সবুজবাগ এলাকার রিকশাচালক হোসেন হাওলাদার বলেন, ‍“কয়েকদিন ধরে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। আজ সকাল থেকে একটানা বৃষ্টিপাত চলছে। কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি, কখনো মাঝারি আবার কখনো ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। শহরে মানুষজনের আনাগোনা অনেকটা কম। বৃষ্টিতে ভিজে বেশি সময় রিকশাও চালাতে পারছি না। অনেকটা বেকায়দায় পড়েছি।” 

কলাপাড়া পৌর শহরের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মোহন বলেন, “মঙ্গলবার কলাপাড়া হাটের দিন। সকাল থেকে অঝোরে বৃষ্টি হচ্ছে। বাজারে মানুষের সংখ্যা খুবই কম। যে কারণে বেচাবিক্রি অনেকটা কমে গেছে। কাঁচামাল পচনশীল, বিক্রি করতে না পারলে পচে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, “মৌসুমী নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে আবস্থান করলেও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে বজ্রবৃষ্টি এবং ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।”